RSS

বাবা কখনো এভাবে বলেনি

সময়টা ছিল অক্টোবর ২০০৯ সালের ৭ তারিখ, প্রতিদিনের মতো সকালে বাড়িতে ফোন করে মায়ের সাথে কথা বলল ।
মা - বলল খোকা তুর বাবা বাড়ি আসতে বলে ।
খোকা - না মা এখনো সম্ভব না, কোন প্রস্তুতি নেই বাড়ি যাওয়ার ।

বাবা মায়ের কাছ থেকে ফোনটা নিয়ে নিল কেড়ে ।

বাবা - খোকা তুই বাড়ি আসবি না ।
খোকা - না, বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নেই ।
বাবা - না, বাড়ি চলে আয় ।
খোকা - এত তাড়া-তাড়ির কি আছে ? আগামী বছর যাব ।
বাবা - না, এ মাসেই চলে আয় । যত তাড়ি-তাড়ি সম্ভব।

খোকার মনটা নরম হয়ে গেল বাবার কথা শুনে, কেন বাবা এমন করে বলতেছে ? বিগত ২ বছর ৬ মাসে কখনো এরকম বলেনি । কিছুক্ষন চুপ থেকে চিন্তা করল ।

খোকা - ঠিক আছে এ মাস শেষ হোক বেতন নিই, তারপর ম্যানেজারকে বলে দেখব ।

বাবা- না, বেতন দিলে না দিলে ও চলে আসবি ।

বাবার কথা শুনে ছেলেটা মন বিগড়ে গেল । কেন বাবা এমন করে বলতেছে ।

ফোনে রেখে সাথে সাথে ম্যানেজারের সাথে কথা হল বাড়ি যাওয়া নিয়ে । বাড়ি যেতে কোন বাঁধা নেই, টিকেটের জন্য বুকিং দিল ২৭ অক্টোবর ২০০৯ ।
সাদা মাটা প্রস্তুতি নিয়ে বাড়ি যাওয়ার জন্য রেড়ি । প্রতিক্ষার প্রহর কবে আসবে ২৭ তারিখ । কাজে তেমন মন বসছে না ।

২৮ তারিখ রাত ১২.০০টায় চট্টগ্রাম বিমান বন্দরে অবতরণ । সেখানে অপেক্ষা করছে একটা বিষ্ময় । সকল বন্ধুরা বরণ করতে ফুল হাতে দাড়িয়ে রইল । অবাক ! তাড়া হুড় করে তাদেরকে বলিনি যে বাড়ি আসছি । সবাইকে এক সাথে পেয়ে অনেক ভাল লাগল । বাড়ির দিকে রওনা হলাম । পথে যে যার স্থানে বিদায় নিচ্ছে ।

ঘরে যাওয়ার আগে রাস্তা মা দাড়িয়ে রইল । আমাকে জড়িয়ে ধরতে অশ্রু চলে আসল মা'র । কখনো মা-বাবা কে ছেড়ে এতদিন কোথাও ছিল না । মাকে সাথে নিয়ে ঘরে গেল। বাবা খাটের উপর শোয়া, তেমন হাঁটা চলা করতে পারত না । কারণ মাত্র ৬ মাস আগেই ব্রেইন স্টোক করছিল । ছেলেকে দেখেই বসে পড়ল । বাবাকে দেখে কেমন জানি লাগল । কি রকম হয়ে গেছে । শরীরের চামড়া জড়া জড়া হয়ে গেছে । ক্ষীণ হয়ে গেল । বিদেশ পাড়ি দেয়ার আগে অনেক সুস্থ ছিল । বাম হাত বাড়িয়ে দেখাল "কোন শক্তি নেই এই হাতে এবং পায়ে ও" সাথে সাথে কয়েকটা আদেশ দিল যা মেনে চলার জন্য । তখন রাত প্রায় ২টা ।

পরদিন সকালে মা বিয়ের কথা উঠাতেই আমি ছাপ জানিয়ে দিলাম - যা টাকা পয়সা আছে এক মাসের বেশি চলবে না । একমাত্র তোমাদের কারণে চলে আসলাম । মা কে বুঝাতে পারলাম, বাবাকে বুঝানো গেল না ।

বাবার মনে গেঁথে আছে সেই মেয়েটি, যে ছোট বোনের সাথে বেড়াতে এসেছে সে ঈদে । মেয়েটি কে দেখার পর থেকে বাবা বাড়ি যাওয়া জন্য বলতেছে । মায়ের ও অপছন্দ ছিল না । এখন ছেলের মতামতের অপেক্ষা । পরের শুক্রবারে দেখার জন্য তাদের বাড়ি যাচ্ছে । না যাওয়ার সকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে বাধ্য হয়ে যেতে হল । বাবা রেগে গেল তাই, মা আর বোনেরা বলতেছে রাগের বসে আবার স্টোক হলে কে দায়ী । সন্ধ্যার দিকে দেখতে রওনা, বাড়ি থেকে মাত্র এক কিলমিটার দূরত্ব । দেখার পর প্রস্থাব ফিরিয়ে দেয়ার মতো কোন ইস্যু পাওয়া গেল না ।

এদিকে দুবাই থেকে দুলাভাই শালার বিয়ে খাওয়ার জন্য প্রস্তুত । বন্ধুদের সহযোগিতায় বিয়ের কাজ সেরে উঠল ডিসেম্বর ৬, ২০০৯ ।
নভেম্বরের ভিতরে বাবা বিয়ের জন্য তাড়াহুড় করল অনেক । দেরি হওয়াতে বাবা একটু নারাজ ছিল ।

২০ ডিসেম্বর বিয়ের পর প্রথম বেড়াতে যাব বলে রাতে পরিকল্পনা হচ্ছে । সেই সন্ধ্যায় ও সব ঠিক টাক ছিল, মা শীতপিঠা (ভাপা পিঠা) বানোর জন্য চালের গুডা তৈরি করছে । বাবাকে খাওয়া দেয়া হল বারান্দায় । হঠাৎ বাবা না খেয়ে বসে আছে । কি হল বাবা ? কোন খারাপ লাগছে ? নরম আওয়াজে বলল একটু খারাপ লাগছে, বক্ষে ব্যাথা অনুভব করছে । বলতে না বলতে শুয়ে পড়ল । তাড়া-তাড়ি ডাক্তারকে ফোন করলাম । ২/১ টা ঔষুধের নাম বলল দৌড়ে গিয়ে ফার্মেসি থেকে নিয়ে খাওয়ালাম । ২০/৩০ মিনিটে ভাল হয়ে গেল । বাবা ঘুমিয়ে পড়ল । ঘরের সবাই যার যার জায়গায় শুয়ে পড়ল । ঠিক এক ঘন্টা পর বাবার আবার সেই ব্যাথা, তাড়া তাড়ি উঠে দেখলাম সবার চোখে ঘুম লেগে আসল । মা কে ডেকে দিলাম, বাবা কেমন করছে । ডাক্তারকে ফোন করলাম, মেডিকেল নিয়ে যেতে পরামর্শ দিল । কিন্তু বাবা যেতে চাচ্ছেনা ।

সকাল পর্যন্ত বসে রইলাম । বাবা শুধু চট পট করছে । সকালে সব পরিকল্পনা লন্ড বন্ড হয়ে গেল । ডাঃ একবার এসে দেখে গেল, আধা ঘন্টা পর আবার আসবে বলে গেল, আধা ঘন্টা আর লাগেনি । তার আগেই সবচিত্র পাল্ঠে গেল । হঠাৎ কাল বৈশাখী ঝড় আমার মাথার ছাঁদ উড়িয়ে নিয়ে গেল । আমাদের রেখে চলে গেল না ফেরার দেশে । এই চিত্র মনে পড়লে এখনো আমাকে কাদাঁয় । ঘরে নতুন বউ আসাতে বাবা কত না খুশি হল । সে বউ তাকে একটু সেবা করার সময়টুকু দিল না । কেমন করে হতে পারে এটা । তাহার কি আগেই জানা ছিল এভাবে চলে যাবে ? না হলে কেন ছেলেকে বিদেশ থেকে আসতে বলল ? কেনই বা বিয়ের জন্য তাড়া হুড়ো করল ?

৬ ডিসেম্বর যে ঘরে ছিল আনন্দের জোয়ার ১৫ দিনের ব্যবধানে ২১ ডিসেম্বর হয়ে গেল নিস্তব্ধ । যা কল্পনাকেও হার মানায় ।

এটা আমার জীবনের ঘটে যাওয়া বাস্তব কাহিনী ।

দৌড়ালে ওজন কমে না!

ওজন কমানোর জন্য যারা নিয়মিত দৌড়ান তাদের হতাশার সংবাদ রয়েছে। সম্প্রতি একজন ব্রিটিশ গবেষক বলেছেন, 'ওজন কমানোর জন্য দৌড়ান এমন প্রচুর মানুষ কার্যত এ ক্ষোত্রে বড় ধরনের সাফল্য পান না।' গ্রেগ ব্রুকস নামের এই ব্রিটিশ গবেষক জানান, 'চর্বি দেহের সবচেয়ে বড় শক্তির উৎস। দৌড়ালে এই শক্তি খরচ হয় বটে কিন্তু যতটুকু চর্বি খরচ হয়, দেহ তার চেয়ে জমিয়ে রাখে বেশি। নিয়মিত যারা দৌড়ান তাদের স্বাভাবিক খাদ্য তালিকায় চর্বি থাকুক বা না থাকুক দেহ সে খাবার থেকে বেশি বেশি চর্বি জমাতে শুরু করে দেয়।' ব্রুকসের মতে, আমাদের শরীর যেকোনো পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সৰম। দৌড়ানোর মত নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের ক্ষেত্রে শরীর তার চাহিদা অনুযায়ী শক্তি সংরৰণ করতে শুরু করে। ফলে বাড়তি মেদ ঝরানো খুব কঠিন হয়ে পড়ে। কেবল তাই নয় ব্রুকস বলেন, আপনি যত বেশি সময় দৌড়াবেন ততবেশি আপনার শরীর শক্তি সাশ্রয়ী হয়ে উঠবে। অর্থাৎ দৌড়ানোতে তখন ক্যালরি বা খাদ্যশক্তি কম খরচ হবে। ফলে চর্বি খরচ হবে অনেক কম। তাছাড়া দৌড়ানোর ফলে শরীরে অস্থিসন্ধির উপর অনেক বেশি চাপ পড়ে বলে তিনি জানান। তার মতে, দৌড়ানোর সময় আমাদের শরীরের ওজনের আড়াইগুণ বেশি চাপ পড়ে হাঁটু ও পায়ের অস্থিসন্ধির উপর। এভাবে ক্রমাগত চাপ পড়তে থাকলে হাঁটু ও পায়ের অস্থিসন্ধি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। বর্তমানের জনপ্রিয় মত হলো ব্যায়াম মানুষের বিপাকক্রিয়া ত্বরান্বিত করে। ব্রুকস বলেন, ব্যায়াম তা করে বটে কিন্তু দৌড়ানো বা জগিং তার উল্টোটিই করে।

ব্রুকসসহ বহু গবেষক মনে করেন নিয়মিত এক ঘণ্টা হাঁটা এবং শাকসবজি, মাছ, আঁশ জাতীয় খাবার ও ফলমূল খাওয়ার অভ্যাস করলে ওজন কমবে। শর্করা জাতীয় খাবার অর্থাৎ ভাত, আলু, মিষ্টি, ময়দার রম্নটি ও পরোটা খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে হবে বা কমিয়ে আনতে হবে। চর্বিযুক্ত মাংস, ঘি ও ননীযুক্ত দুধও যথেষ্ট পরিমাণ ওজন বাড়ায়। যারা চা পান করেন দিনে অন্তত তিনবার তারা চা থেকে চিনি বাদ দিতে পারেন। এছাড়া ফাস্টফুড, পেস্ট্রি, কেক ইত্যাদি বেকারি খাবারেও রয়েছে উচ্চমাত্রার স্যাচুরেটেড ফ্যাট। এ ধরনের খাবার থেকে দূরে থাকাটাই শ্রেয়।

স্বাস্থ্যকর অভ্যাস যেমন নিয়মিত ৮ ঘণ্টা ঘুম, চাপ ও স্ট্রেসমুক্ত জীবনযাপন এবং সুষম খাবার ওজন কমাতে সাহায্য করে। এ ধরনের স্বাস্থ্যকর অভ্যাস রপ্ত করতে পারলে কেবল ওজনই নিয়ন্ত্রণে থাকবে না বরং দীর্ঘায়ু লাভ করা যাবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।


দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া অবলম্বনে

সুন্দর পুরুষ ও নারীর বুদ্ধি বেশি!

সুদর্শন পুরুষ ও সুন্দরী নারীদের প্রায়ই সুখী জীবনযাপন করতে দেখা যায়। তাঁদের প্রতি ভাগ্য যেন সব সময়ই প্রসন্ন হয়। এর কারণ কী? মানুষের শারীরিক সৌন্দর্য ও মস্তিষ্কের মধ্যে কোথাও কি যোগসাজশ রয়েছে? সুন্দর পুরুষ ও নারীদের বুদ্ধিমত্তা কি অন্যদের তুলনায় বেশি?
এসব প্রশ্নের কিনারা করতে গবেষণার অন্ত নেই। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের পৃথক গবেষণার ফলে দেখা গেছে, শারীরিকভাবে আকর্ষণীয় নারী ও পুরুষদের বুদ্ধিমত্তা আর দশজনের তুলনায় বেশি থাকে। সুদর্শন পুরুষ ও সুন্দরী নারীদের বুদ্ধিমত্তা গড়পড়তা বুদ্ধিমত্তার নর-নারীদের চেয়ে অন্তত ১৪ পয়েন্ট বেশি। এ ক্ষেত্রে পুরুষেরা আবার নারীদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন।
লন্ডন স্কুল অব ইকনোমিকসের (এলএসই) গবেষণায় বলা হয়েছে, শারীরিক সৌন্দর্যের অধিকারী কোনো পুরুষ কিংবা নারী সাধারণত তাঁদের মতোই সুন্দর ও অনেক ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি বুদ্ধিমত্তার জীবনসঙ্গী বেছে নেন। এ ধরনের দম্পতির ঘরে যে শিশুরা জন্মায়, এরা জিনগত কারণে বাবা-মায়ের শারীরিক সৌন্দর্যের অধিকারী তো হয়ই, সেই সঙ্গে অধিকতর বুদ্ধিমত্তাও পায়।
ব্রিটেনে গবেষণায় পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, শারীরিকভাবে আকর্ষণীয় পুরুষেরা গড়পড়তা বুদ্ধিমত্তার পুরুষদের চেয়ে ১৩ দশমিক ৬ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন। নারীরা রয়েছেন ১১ দশমিক ৪ পয়েন্টে এগিয়ে।
ন্যাশনাল চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডির তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কানাজাওয়া এই গবেষণা সম্পন্ন করেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা চালানো হয় ন্যাশনাল লংজিটুডিনাল স্টাডি অব অ্যাডলসেন্ট হেলথের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে, যেটা ৩৫ হাজার তরুণ আমেরিকানের ওপর গবেষণা চালায়।

ডেইলি মেইল অনলাইন।

ঘুম মানুষকে করে তোলে কমনীয়

মুখের সতেজভাব ও কমনীয়তা রক্ষা করতে অনেকেই ঘুমকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে তাদের এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক। পরিপূর্ণ ঘুম যেমন সুস্থতার চাবি-কাঠি ঠিক তেমনি ঘুম ঠিকমত না হলে শরীরে রোগ বাসা বাধতে পারে। দৈনিক ৬ থেকে ৮ ঘন্টা নিরবিচ্ছিন্ন ঘুম মানুষকে আকর্ষণীয় করে তোলে। ঘুম বঞ্চিত মানুষের চেহারা থেকে কমনীয়তা উবে যায়। চেহারা হয়ে ওঠে রুক্ষ।

সৌন্দর্য্য রক্ষার্থে বিউটি িপের' ধারণা যুগ যুগ ধরে প্রচলিত রয়েছে। আহারের পর নারীরা একটু ঘুমিয়ে নিতে পছন্দ করেন সৌন্দর্য্য রক্ষার খাতিরে। গবেষকরা বলছেন, ঘুম বাস্তাবিকই মানুষকে কমনীয় করে তোলে। গবেষকরা ২৩ জন তরুণ-তরুণীকে নিয়ে এই গবেষণা পরিচালনা করেছেন। ৮ ঘন্টা ঘুমের পর একবার প্রত্যেকের ছবি তুলেছেন তারা। এরপর স্বেচ্ছাসেবীরা ৩১ ঘন্টা নির্ঘুম ছিলেন, ৩১ ঘন্টা পর আবার তাদের প্রত্যেকের ছবি তোলা হয়। প্রত্যেক স্বেচ্ছাসেবীর প্রথম ও দ্বিতীয় ছবি পাশে রাখার পর পার্থক্যটা সহজেই ধরা পড়েছিল। প্রথম আলোকচিত্রটিতে স্বেচ্ছাসেবীদের সতেজ ও কমনীয় দেখাচ্ছিল। ৩১ ঘন্টা জেগে থাকার পর তাদের চেহারার সেই কমনীয়তা হারিয়ে গিয়েছিল। চেহারার এই পরিবর্তন থেকেই বোঝা যায় ঘুম মানুষকে কতটা সতেজ ও সি্নগ্ধ করে তোলে। ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এই গবেষণা সম্পর্কে বিশদ তথ্য তুলে ধরা হয়।

তবে স্টকহোমের কারোলিনস্কা ইন্সটিটিউটের গবেষকদের মতে এই গবেষণায় যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক তথ্য উপাত্ত উপস্থিত করা হয়নি। তাই বিষয়টি সত্য হলেও এখনই তা সর্বজনের স্বীকৃতি পাবে না। ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালের নিবন্ধে দাবি করা হয় 'ঘুম মানুষকে সুস্থ, ঝরঝরে ও আকর্ষণীয় করে তোলে। অপরদিকে অনিদ্রায় স্বাস্থ্য খারাপ হয়, চেহারা হয়ে উঠে শ্রীহীন। 'যুক্তরাজ্যের সারে পি রিচার্স সেন্টারের গবেষক ড্রেক জেন ডিকা বলেন, 'ঘুম সৌন্দর্য্য রৰায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই গবেষণায় পাওয়া স্বেচ্ছাসেবীদের জেগে থাকার ছবিগুলো বিশেস্নষন করলেই এটা প্রমাণিত হয়'। তবে যা দেখা গেছে ঘুমের প্রভাব এর চেয়েও বেশি বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, 'সারা রাত জাগার পর চেহারা কেমন হয়ে ওঠে তা প্রত্যেকেই অনুধাবন করতে সৰম। এজন্য গবেষণারও তেমন প্রয়োজন নেই। ঢুলু ঢুলুচোখের নিদ্রাক্লান্ত মুখ দেখতে যার ভালো লাগে। তাই নিজেকে ঘুম বঞ্চিত করা চলবে না। নিয়মিত আট ঘন্টা ঘুমান, সুন্দর থাকুন।


বিবিসি অবলম্বনে

সুন্দর দম্পতিদের মেয়ে হয় বেশি

প্রথম বাচ্চাটি কী চান, ছেলে নাকি মেয়ে? কেউবা ছেলে, কেউবা মেয়ে চান। তবে সুন্দর দম্পতিদের জন্য মেয়ে হওয়ার সম্ভাবনাই নাকি বেশি। সম্প্রতি এক ব্রিটিশ গবেষক এমন তথ্য জানিয়েছেন।
লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের মনোবিজ্ঞানী ড. শাতোশি কানাজাওয়া দীর্ঘদিন গবেষণার পর এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, যেসব দম্পতি দেখতে সুন্দর ও আকর্ষণীয়, তাদের সন্তান ছেলের চেয়ে মেয়ে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি। তিনি তার এই গবেষণার জন্য ১৭ হাজার ব্রিটিশ শিশুর ওপর নজর রেখেছেন, যাদের কারও কারও জন্ম ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত। এসব শিশুর সৌন্দর্য ও আকর্ষণের ওপর তিনি তাদের বাছাই করেছেন। এসব শিশু যখন পূর্ণবয়স্ক হয়েছে, তখন দেখা গেছে যারা বেশি আকর্ষণীয় তাদের বেশিরভাগ সন্তানই মেয়ে। এই থেকে ড. শাতোশি কানাজাওয়া মনে করছেন সুন্দর দম্পতিদের মেয়ে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
এর বাইরে আরও একটি বিষয় তিনি লক্ষ্য করেছেন। তা হলো, যেসব নারী দেখতে সুন্দর তাদের সম্পর্ক দীর্ঘদিন টিকে থাকে। কারণ পুরুষরা সুন্দর নারীদের সঙ্গে স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী। অন্যদিকে আকর্ষণীয় পুরুষদের সঙ্গে নারীরা স্থায়ীর বদলে অস্থায়ী এবং স্বল্পমেয়াদে সম্পর্ক গড়ে তুলতেই বেশি আগ্রহী। সেই হিসেবে বলতে হয়, তুলনামূলক কম সুন্দর পুরুষরাই ভাগ্যবান। তবে কেবল পুরুষের চেহারা নয়, যোগ্যতা এবং সামাজিক অবস্থান অবশ্যই একটি বড় ভূমিকা রাখে দাম্পত্য সম্পর্কের বেলায়।
এদিকে সুন্দর নারীরা দাম্পত্য সম্পর্কের বেলায় সুবিধা পায় এবং এই সৌন্দর্য প্রভাব ফেলে তাদের প্রজনন ক্ষমতার ওপর। যার ফলে দেখা যায় তারা মেয়েসন্তান জন্ম দেয় বেশি, এমনটিই মতামত মনোবিজ্ঞানী ড. শাতোশি কানাজাওয়ার।
তবে তার এই মতকে এখনই স্বতঃসিদ্ধ হিসেবে গ্রহণ করতে রাজি নন অন্যান্য বিজ্ঞানীরা। কারণ দেখা যায়, অনেক সুন্দর দম্পতির শুধুই ছেলেসন্তান। উদাহরণ হিসেবে ফুটবল তারকা ডেভিড বেকহ্যামের কথা বলতে হয়। তবে এ নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে সেটা বলা যায়।

বিবিসি

মাত্রাতিরিক্ত টেলিভিশন শিশুদের মানসিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করে

শিশুটিকে কোনোভাবেই টেলিভিশনের সামনে থেকে সরানোর উপায় নেই। সারাদিনই কার্টুন নিয়ে পড়ে আছে। স্কুলের সময়টুকু বাদে বাকি সময় ফাঁক পেলেই হয় কার্টুন নয়ত কম্পিউটার গেমস খেলতে বসে যাওয়া। পড়াশোনায় মনোযোগ নেই, ঠিকমতো খাওয়া দাওয়াও করে না। এমন অভিযোগ তাদের সন্তান সম্পর্কে প্রায় অভিভাবকই করে থাকেন। শিশুদের এই প্রবণতা বিশ্বজুড়েই বাড়ছে। মনোবিদরা সাম্প্রতিক গবেষণার পর জানিয়েছেন, অতিমাত্রায় টেলিভিশন দেখার অভ্যাস শিশুদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক ও আচরণগত সমস্যা তৈরি করে। অভিভাবকদের টিভি রিমোট লুকিয়ে ফেলার কিংবা গেম খেলার কম্পিউটার বা গেমার শিশুদের কাছ থেকে দূরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ১০ থেকে ১১ বছর বয়সী হাজার খানেক শিশুর উপর গবেষণা চালিয়ে টেলিভিশন দেখার ক্ষতিকর প্রভাব খুঁজে পেয়েছেন। গবেষকরা জানান, শিশুরা অতিমাত্রায় টিভি দেখলে বা গেম খেললে, খিটখিটে হয়ে পড়ে, বায়না ধরে মাত্রাতিরিক্ত, অমিশুক হয়ে যায় এবং হাইপার এক্টিভিটি ডিজঅর্ডার বা অতিরিক্ত দুষ্টুমি রোগে আক্রান্ত হয়। এ ধরনের শিশুরা বাড়ির কাজ বা স্কুলের পড়া শেষ করতে পারে না। পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ শূন্যের কোঠায় চলে আসে এবং সমবয়সী শিশুদের সাথে সহজভাবে মিশতে পারে না।

গবেষকরা ২৫টি প্রশ্ন সম্বলিত একটি যাচাইপত্র দেন শিশুদের। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেখে তারা নির্ধারণ করেছেন শিশুদের মানসিক অবস্থা কেমন। দেখা গেছে, যেসব শিশু ২ ঘণ্টার উপর টেলিভিশন দেখে তারা প্রশ্নপত্রের উত্তরগুলো লিখতে পারেনি এবং মূল্যায়নে তাদের মান অনেক খারাপ এসেছে। অপরদিকে যারা একদমই টেলিভিশন দেখে না বা কম দেখে তাদের মানসিক স্থিরতার প্রমাণ পেয়েছেন গবেষকরা। উত্তরপত্রে তারা ভালো নম্বরও পেয়েছে। এমন কী শারীরিক খেলাধুলা করে এমন শিশুরাও অত্যধিক টেলিভিশন দেখার কুপ্রভাব থেকে মুক্ত নয় বলে জানান গবেষকরা। গবেষকরা বলছেন, যেসব শিশু নিয়মিত খেলাধুলা করে সমবয়সী শিশুদের সাথে মিশতে সক্ষম ও বন্ধুত্ব তৈরি করে তারা মানসিকভাবে অধিকতর সবল। লেখাপড়ায় ও তাদের ভালো করার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।


এএফপি অবলম্বনে

জন্মান্ধকে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেয়া সম্ভব

জন্ম থেকেই অন্ধ এমন মানুষকেও অদূর ভবিষ্যতে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি চোখের রেটিনার 'কোনসেল' সফলভাবে ইঁদুরের চোখে প্রতিস্থাপন করেছেন তারা। 'কোনসেল'চোখের মণি বা রেটিনার দু'টি গুরম্নত্বপূর্ণ কোষের একটি।

এ ধরনের কোষ রঙিনবস্তু দেখতে সাহায্য করে। বিজ্ঞানীরা চারবছর পূর্বে ইঁদুরের চোখে রেটিনার অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ কোষ 'রডসেল' প্রতিস্থাপন করেন সফলভাবে। রডসেল রডকোষ স্বল্পালোক এবং রাতে দেখার কাজে সাহায্য করে। উলেস্নখ্য, রড ও কোন এই দুই ধরনের কোষ দেখার কাজে প্রধান ভূমিকা রাখে।

বিজ্ঞানীরা জন্মান্ধ ইঁদুরের চোখে এই দুই ধরনের কোষ প্রতিস্থাপনে সফল হওয়ার পর মানুষের অন্ধত্ব মোচনেও আশাবাদী হয়ে উঠেছেন তারা। এ ধরনের কোষ তৈরি করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা মানব ভ্রুণ ব্যবহার করার কথা ভাবছেন। মানব-ভ্রণ বা হিউম্যান এম্ব্রায়োনিক স্টেম সেল দেহের যেকোনো অঙ্গ সৃষ্টিতে সক্ষম। এই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে কৃত্রিম চোখের দিকে একধাপ অগ্রসর হয়েছেন বিজ্ঞানীরা।


এই গবেষনার সাথে যুক্ত ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন বা ইউসিএলের গবেষক জেন সওডেন বলেন, রেটিনায় 'কোনসেল' বা 'কোনকোষের' অনুপস্থিতি বা নষ্ট হয়ে যাওয়া অন্ধত্বের সবচেয়ে বড় কারণ। সওডেন ও তার সহকর্মীরা ইঁদুরের ভ্রুণে এক ধরনের কোষের উপস্থিতি লৰ্য করেন যেগুলো 'কোন' অথবা 'রড' কোষে পরিণত হয়। এ ধরনের কোষের মধ্যে রয়েছে 'কোন রড হোমিবক্স' নামের একটি জিন যা এই দু'টি গুরুত্বপূর্ণ কোষ তৈরিতে ভূমিকা রাখে। ভ্রুণের মধ্য থেকে বিশেষ কোষটি পৃথক করে বিজ্ঞানীরা এর সংখ্যা বৃদ্ধি করেন।

'লেবার কনজিন্যাটাল আমাউরোসিস'নামের ইঁদুরের এক ধরনের জন্মগত অন্ধত্ব দূর করতে বিজ্ঞানীরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। অন্ধ ইঁদুরের প্রতিটি চোখের ভেতর ' কোনসেল' তৈরি করে এমন ২ লৰ কোষ ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন গবেষকরা। রেটিনার আলোক সংবেদী কোষের ভেতর নতুন এই কোষগুলো প্রতিস্থাপন করা হয়। ২১ দিন পর নতুন কোষগুলো এক একটি পূর্ণাঙ্গ 'রড' ও 'কোন' কোষের পর নতুন কোষগুলো এক একটি পূর্ণাঙ্গে পরিণত হয়।

নতুন এই গবেষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন ম্যাসাচুসেটসের ওরচেস্টারে অবস্থিত অ্যাডভান্সড সেল টেকনোলজির প্রধান গবেষক রর্বাট লণজা। তিনি বলেন, ২০০৪ সালে চোখের রেটিনায় মানব ভ্রুণ থেকে সফলভাবে রেটিনার কোষ তৈরি হয়েছে। এখন এই গবেষণাও আশার আলো জাগালো। তবে এসবই এখনো খুব প্রাথমিক সত্দরে আছে। অন্ধত্ব দূর করতে যেতে হবে আরো বহুদূর।

পিল নয় পানি পানে স্লিম হোন

স্লিম থাকতে কে না চান। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে নিজেকে স্লিম রাখার প্রাণান্তকর চেষ্টার কমতি থাকে না। মূলত নিজেকে অন্যের কাছে সুন্দর করে উপস্থাপনই এর লক্ষ্য। সুন্দরীরা স্লিম হওয়ার জন্য রীতিমতো ডায়েট পিল খাওয়া, এমনকি সারাদিন না খেয়ে থাকতেও দ্বিধা করেন না। অনেকে তো খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের কারণে পুষ্টিহীন রোগীতে পরিণত হয়। অথচ চিকিত্সকরা বলছেন, স্লিম হওয়ার জন্য অতো খাটাখাটুনির প্রয়োজন নেই। খাবার খাওয়ার আগে নিয়মিত বিশুদ্ধ পানি পান করলেই এ ব্যাপারে কার্যকর ফল পাওয়া যেতে পারে। খাবার আগে যদি অন্তত দুই গ্লাস পানি পান করেন তাহলে তা দেহের ওজন কমাতে সহায়ক হবে।
সামপ্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, নারী পুরুষের প্রতিদিন গড়ে ২ দশমিক ৭ থেকে ৩ দশমিক ৭ লিটার পানি পান করা উচিত। সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার কিংবা রাতের খাবারের আগে পানি পান করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে এ গবেষণা ফলাফল প্রকাশ করা হয় সম্প্রতি। মোট ৪৮ জন বাড়তি ওজনের নারী-পুরুষকে নেয়া হয় গবেষণা কাজে। এদের মধ্যে অর্ধেককে খাবার খাওয়ার আগে পানি পান করতে দেয়া হয়। তিন মাস পর দেখা যায় গড়ে তাদের ওজন কমেছে সাড়ে ১৫ পাউন্ড করে। আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির এ গবেষণায় অংশ নেয়া গবেষক ব্রেন্ডা ডেভি জানান, যারা ওজন কমাতে চান তাদের সব সময় পানির বোতল সঙ্গে রাখা উচিত। আর মূল খাবার খাওয়ার ২০ মিনিট আগে দুই কাপ পানি পান করলেই যথেষ্ট। শুধু তাই নয়, নিয়মিত এভাবে পানি পান করলে ওজন কমার ধারাও অব্যাহত থাকবে। ফলে শরীরের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাও সম্ভব হবে।
গবেষক স্টেফিন কুক এ প্রসঙ্গে বলেন, মানুষের ওজন কমানোর অন্যতম নিরাপদ উপায় হচ্ছে খাবার আগে পানি পান করা। এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।

শুচিবাই থেকে দূরে থাকুন

পৃথিবীজুড়ে হাজারো মানুষ ভুগছেন শুচিবাই রোগে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এ রোগের নাম 'অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিজঅর্ডার' বা 'ওসিডি'। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠারই ভিন্ন রকম বহিঃপ্রকাশের নাম 'ওসিডি'। এ রোগে আক্রান্তরা বারবারই বাজে চিন্তায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন এবং অনিচ্ছা সত্ত্বেও একই কাজ করে যান বারবার। ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট সিমা হিঙ্গোরানি বলেন, 'এই রোগের উপসর্গ মৃদু থেকে তীব্র হতে পারে। তীব্র মাত্রায় শুচিবায়ের শিকার কেউ যদি চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হন তবে তার ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও দক্ষতা অনেকখানি কমে যেতে পারে। শিক্ষাঙ্গন, কর্মক্ষেত্র কিংবা বাড়িতে কাজের ৰেত্রে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।'

শুচিবাই বা ওসিডিতে আক্রান্ত মানুষরা সবসময় নিজের পোশাক পরিচ্ছদের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে চিন্তিত থাকে। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বাড়াবাড়ি বাতিকের পর্যায়ে চলে যায়। এরা ঘন ঘন হাত ধোয়, গোসল করে তবু ময়লা এবং জীবাণুর ভয়ে ভীত থাকে। মোট কথা সদা সতর্ক অবস্থায় থাকে এ ধরনের মানুষ। অনেকের দাম্পত্য জীবনেও এ নিয়ে অশানত্দি দেখা দেয়। একান্ত ঘনিষ্ঠতার সময় এমন রোগে আক্রান্ত স্বামী বা স্ত্রী স্বস্তিবোধ করে না। শয়নকক্ষের দরজা ঠিকভাবে আটকানো হয়েছে কী-না অথবা কেউ তাদের দেখছে কী-না এমন অদ্ভুত দুশ্চিন্তা কাজ করে তাদের মধ্যে। ওসিডি আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানো ও অন্যকে আঘাত করার ভয়ে সবসময় ভীত থাকে। তারা নিয়মভঙ্গ হয় কী-না সে দুশ্চিন্তাও সব সময় নিজের মধ্যে বহন করে। কোনো একটা স্থানের বা নিজের বাড়ির কোনো কৰের সাজসজ্জা একটু এলোমেলো দেখলেই অসহায় বোধ করে এরা। ঠিকমত নেভানো হয়েছে কী-না এই বিষয়গুলো তাদের ব্যতিব্যস্ত করে তোলে।

ঘন ঘন হাত ধোয়া ও দীর্ঘসময় ধরে গোসল করা শুচিবাই বা ওসিডির লৰণ। এরা নিজের কাজকে নিখুঁত করার চেষ্টা করে এবং বারবার অসম্পাদিত কাজের তালিকা তৈরি করে। মাঝে মাঝে একই লেখা বারবার পড়ে কোনো কারণ ছাড়াই। কাউকে কাউকে অতিরিক্ত ধর্মকর্ম বা পূজা-আর্চাও করতে দেখা যায়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ড. বসন্ত মানদ্রা বলেন, 'এই রোগে আক্রান্ত মানুষজন আত্মহত্যাপ্রবণ হয়ে উঠতে পারে। তাছাড়া এরা সব সময়ই নিজের কোনো জটিল রোগ হয়েছে এমনটা ভেবে আতংকে আচ্ছন্ন থাকে।'

ড. জয়তি সাঙ্গেল বলেন, বেকারত্বজনিত মনোদৈহিক চাপ বা স্ট্রেস, কর্মক্ষোত্রে অসাফল্য, সম্পর্কের জটিলতা, দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা এবং সনত্দান জন্মদান সংক্রান্ত কারণে শুচিবাই বা ওসিডি বেড়ে যেতে পারে।

শুচিবাইয়ের হাত থেকে বাঁচার জন্য মনোরোগ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সাধারণত আচরণগত চিকিৎসার মাধ্যমে ওসিডি নিরাময় করা হয়। তাদের সমস্যা অন্য কেউ শুনছে বা ভাগ করে নিচ্ছে এটা বুঝতে পারলে মানসিক বিকার কমে আসবে। নিয়মিত কাউন্সিলিঙের মাধ্যমে এই রোগ ভালো হয়।


দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া অবলম্বনে

হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখতে মেনে চলুন ১০টি পরামর্শ

সুস্থ সবল হৃৎপিণ্ড দীর্ঘ জীবনের চাবিকাঠি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিযোগিতাপূর্ণ দ্রুত নাগরিক জীবনে বাড়ছে কাজের চাপ ও স্ট্রেস। পাশাপাশি ফাস্টফুড বা দ্রুত খাবারে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সিংহভাগ মানুষ। গবেষকরা বলছেন ক্রমাগত স্ট্রেসের মধ্যে থাকলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। দেখা দেয় উচ্চ রক্তচাপের মত শারীরিক উপসর্গ। বর্তমানে তরুণরাও উল্লেখযোগ্য হারে হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে স্ট্রেসের পরিমাণ কমানো, ধূমপান ত্যাগ, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা। সুস্থ হৃৎপিণ্ডের জন্য ১০টি পরামর্শ মেনে চলার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা। এগুলো হল-

ধূমপান ত্যাগ : ধূমপান ১৫ থেকে ২৫ বছর আয়ু কমিয়ে দেয়। যদি কেউ ধূমপায়ী হয় তবে তার হার্ট এটাকের আশংকা অধূমপায়ীর তুলনায় দ্বিগুণ। তবে যখন থেকেই ধূমপানের অভ্যাস কেউ ত্যাগ করবে তখন থেকেই হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যাবে অনেকাংশে।

লবণ কম খাওয়ার অভ্যাস : লবণ রক্তচাপ বাড়ায়। তাই খাবারের সঙ্গে বাড়তি লবণ খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে দ্রুত।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস : সুস্থ হৃৎপিণ্ডের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। মাছ, ফল-মূল ও শাক-সব্জি বেশি পরিমাণ খেতে হবে। খুব বেশি শর্করা ও মাংস জাতীয় খাবার খাওয়া যাবে না।

মদ্যপান নিষেধ : খুব বেশি মদ্যপান করলে হৃদপেশি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এছাড়া নিয়মিত মদ্যপানে ওজন বাড়ে ও রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। তাই সুস্থ হৃৎপিণ্ডের জন্য মদ্যপানের অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।

সক্রিয় থাকুন : ব্যায়াম করম্নন কিংবা শারীরিক পরিশ্রম হয় এমন কাজ করুন প্রতিদিন। সচল ও সক্রিয় না থাকলে শরীরের বিপাক ক্রিয়ার গতি মন্থর হয়ে যায়। ঝুঁকি বাড়ে হৃদরোগের।

রক্তচাপ, রক্তশর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়মিত পর্যবেৰণ করতে হবে।

সুস্থ আছেন কী-না সেটা জানাও জরুরি। হৃৎপিণ্ড ক্ষতিগ্রসত্দ হওয়ার আগে রক্তচাপ, রক্তশর্করা বা বস্নাড সুগার ও কোলেস্টেরলের মাত্রা অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে। এসব শারীরিক অবস্থা তাই সব সময় পর্যবেৰণ করতে হবে। নিয়মিত চেকআপ করলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

কোমরের চর্বি কমান : কোমরের মাপ বড় হলে এর চারপাশে চর্বির স্তর পড়লে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই কোমর সরু রাখা জরুরি।

স্ট্রেস কমান : আপনি যখন খুব ব্যস্ত থাকেন তখন নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া না হলেও ধূমপানের পরিমাণ হয়ত বেড়ে যায়। এটা চরম স্ট্রেসের লক্ষণ। স্ট্রেস কমাতে নিয়মিত ৮ ঘণ্টা ঘুম ও যোগ ব্যায়াম করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

পারিবারিক ইতিহাস জানুন : আপনার পরিবারে যদি হৃদরোগের ইতিহাস থাকে, যদি বাবা মায়ের এই রোগ থেকে থাকে তবে আপনারও এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। কাজেই অন্যদের তুলনায় আপনাকে অনেক বেশি সতর্ক হতে হবে।

হাসুন : হাসি হলো মহৌষধ। হাসতে পারা ও হাসির উপলৰ তৈরি করা জরম্নরি। এতে মন হালকা হয়। স্ট্রেস কমে।


দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া অবলম্বনে

হৃদরোগ ও বিষণ্নতা এক হলে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায় বহুগুণ

হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুঝুঁকি সাধারণের তুলনায় বহুগুণ বেশি। কিন্তু এর সঙ্গে যদি বিষণ্নতা যুক্ত হয় তবে মৃতু্যঝুঁকি বেড়ে যায় আরো কয়েকগুণ। সম্প্রতি বেশ কয়েক বছর ধরে ব্রিটিশ ও ফরাসি গবেষকরা প্রায় ৬ হাজার মানুষের উপর গবেষণা চালিয়ে এ তথ্য পেয়েছেন। গবেষকদের মতে, কেবলমাত্র হৃদরোগে আক্রান্তদের তুলনায় হৃদরোগ ও বিষণ্নতা উভয় রোগে আক্রানত্দদের মৃত্যুঝুঁকি ৪ গুণ বেশি। 'হার্ট জার্নাল' নামের একটি চিকিৎসা সাময়িকীতে প্রকাশিত এই প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে গবেষকরা প্রায় ৬ হাজার মধ্যবয়স্ক মানুষের ওপর পাঁচ বছর ধরে সমীক্ষা চালিয়েছেন।

'ব্রিটিশ হোয়াইট হল স্টাডির' অধীনে দু'দেশের গবেষকরা এই গবেষণায় অংশ নেন। স্বাস্থ্যের উপর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবকগুলোর প্রতিক্রিয়া জানতে ব্রিটিশ সরকার এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ ও ফ্রান্সের ভার্সাই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এই গবেষণায় অংশ নেন। প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ধরে চলা এই গবেষণায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যারা অংশ নিয়েছেন তারা প্রধানত মধ্যবয়সী সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী ছিলেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা হৃদরোগে আক্রান্ত তারা সুস্থ মানুষের তুলনায় ৬৭ ভাগ বেশি মৃত্যুঝুঁকিতে থাকেন। কিন্তু এর সঙ্গে যদি বিষণ্নতা যুক্ত হয় তবে মৃত্যুঝুঁকির হার তিনগুণ বৃদ্ধি পায়। ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের সিনিয়র নার্স এমি হমসন বলেন, 'ইতোপূর্বে বিষণ্নতার সাথে হৃদরোগের সম্পর্ক নিয়ে যে গবেষণা হয়েছিল এই গবেষণা তারই ধারাবাহিকতায় হয়েছে। বিষণ্নতার সাথে এমনিতেই হৃদরোগের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু যদি উভয়রোগের সম্মিলন ঘটে কারো মধ্যে তবে মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।'

এ ধরনের মারাত্মক পরিস্থিতি এড়াতে হলে প্রথমেই নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। বিষণ্নতাকে অবহেলা না করে দ্রম্নত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার আহবান জানিয়েছেন তারা। নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ও ইতিবাচক ভাবনা পাল্টে দিতে পারে জীবনধারা। চিকিৎসকের পরারর্শ মেনে হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে রেখে এমন জীবনাভ্যাস রপ্ত করতে পারলে মৃত্যুঝুঁকি অনেকগুণ কমে যাবে বলে মনে করেন তারা।

মেদ কমানোর জন্য রাতের খাবার বাদ দেয়া যাবে না

যারা মেদ কামানোর জন্য রাতের খাবার ছেড়ে দিয়েছেন তারা নিজেদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছেন। সম্প্রতি এক গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা বলেছেন, রাতে ঘুমানোর আগে হালকা কিছু খেয়ে নেয়া ভালো। গবেষকরা বলছেন- সকালের নাস্তা যদি রাজার মতও হয় তবু রাতে কিছু না কিছু খেতে হবে। ঘুমানোর আগে কার্বহাইড্রেট ও প্রোটিন সমৃদ্ধ হালকা খাবার খেলে ওজন কমে এবং শরীরও ভালো থাকে বলে মনে করছেন তারা। তারা নাস্তা হিসেবে রাতের খাবারকে দেখতে বলেছেন। দই, কম চর্বিযুক্ত পনির, সিরিয়াল ও ফল রাখা যেতে পারে রাতের খাবারের তালিকায়। রাতে শর্করা বা কার্বহাইড্রেট খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে ও ওজন কমে।

ফিটনেস এক্সপার্টদের মতে, আমাদের খাদ্যের ৫৫ থেকে ৬০ ভাগ হওয়া উচিত শর্করা। কারণ শরীরের প্রধান শক্তির উৎস এটাই। শর্করা সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে বিশেষ করে শাক-সবজি ও ফলের মধ্যে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ও আঁশ জাতীয় উপাদান। গবেষকদের মতে, দানা শস্য, শিম, ফল এবং শাক-সবজি খুব ধীরে রক্তে শর্করা ছড়ায়। ফলে রক্ত-শর্করা বা ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে বহুক্ষণ। ভারতীয় পুষ্টিবিদ রিতিকা সামাদ্দার বলেন, 'স্বাস্থ্যকর খাবারে আমিষ এবং শর্করা যথাযথ পরিমাণে থাকে। শুধু সালাদ কিংবা সু্যপ আদর্শ খাবার হতে পারে না। শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ ও ভিটামিন এতে থাকে না।' তিনি বলেন, 'সু্যপ দিয়ে খাবার শুরু করুন, তারপর ফিরে যান প্রতিদিনকার নিয়মিত খাদ্য তালিকায়।' প্রক্রিয়াজাত বা তৈরি খাবার স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এ ধরনের খাবার বস্নাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। ফলে শরীরে ক্লান্তি ও ক্ষুধা বোধ হয়।

সম্প্রতি আমেরিকান জার্নাল অফ মেটাবলিজম সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানা গেছে, যে কোনো এক বেলার খাবার না খেয়ে অন্য কোনো সময় এক সাথে বেশি খেলে হজমে সমস্যা হয় এবং ইনসুলিন ঠিক মত কাজ করে না। ফলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

গবেষকদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যত বেলা বাড়তে থাকে ততই শরীরের বিপাক ক্রিয়ার গতি মন্থর হতে থাকে। তাই রাতের খাবারে আদর্শ সময় হল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে রাত আটটা। খাওয়ার পর পরই ঘুমানো ভালো নয়। এতে শরীর অত্যধিক মেদ সঞ্চয় করে।

যারা মেদ কমানোর জন্য লড়ছেন তাদের জন্য আদর্শ রতের খাবার হতে পারে, চাপাতি বা রুটি, ডাল , সবজি। এছাড়া শিমের তৈরি খাবার ও সু্যপও থাকতে পারে সাথে।


দ্য টইমস অফ ইন্ডিয়া অবলম্বনে

ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি কমায় চা ও কফি


অতিরিক্ত চা বা কফিপায়ীদের জন্য সুখবর। যারা নিয়মিত চা ও কফি পান করেন তাদের মস্তিষ্কে টিউমার হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় কম। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই তথ্য জানা গেছে। পাঁচ লৰাধিক প্রাপ্তবয়স্ক ইউরোপীয় নাগরিকের উপর গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে, প্রায় ৮০ ভাগ ৰেত্রে যে ধরনের ব্রেন টিউমার হয় মানব মস্তিষ্কে সেরকম ব্রেন টিউমারে ঝুঁকি চা ও কফি কমিয়ে দেয়। গ্লিওমাস নামের এ ধরনের ব্রেন টিউমারেই মানুষ আক্রান্ত হয় বেশি। কিন্তু চা ও কফি নিয়মিত পান করলে গ্লিওমাস টিউমারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। তবে এই গবেষণা এটা প্রমাণ করে না যে, পানীয় দু'টোর অত্যাশ্চর্য ক্ষমতা রয়েছে বা এসব পান করলে ব্রেন টিউমারের বিরুদ্ধে শরীরে প্রতিরোধ তৈরি হবে। লন্ডনের ইম্পিরিয়াল কলেজের গবেষক ডমিনিখ মিখাউদ বলেন, 'এটা খুব প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণা তাই এই গবেষণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে কেউ চা ও কফিতে আসক্ত হয়ে উঠলে ভুল হবে।' গবেষকদের মতে, চা ও কফির প্রভাব যদি ব্রেন টিউমারের উপর থাকেও তবে তা অতি নগণ্য। ইউরোপে ব্রেন টিউমারে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কম। প্রতি এক লাখ ইউরোপবাসীর মধ্যে চার থেকে ছয়জন নারী এবং ছয় থেকে আটজন পুরুষ ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়। সব মিলিয়ে একজন ইউরোপবাসীর ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি এক শতাংশেরও কম। তবে তারপরও যারা খুব বেশি পরিমাণ কফি ও চা পান করেন তাদের ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি কমে যায় বলে জানিয়েছেন গবেষক ডমিনিখ। তিনি বলেন, 'ঠিক কী কারণে ব্রেন ক্যান্সার হয় আমরা জানি না তাই এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলাও সম্ভব হয়নি।

আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন নামের গবেষণা সাময়িকীতে এই সংক্রান্ত নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়। ৫ লৰ ২১ হাজার ৪৮৮ জন নারী এবং পুরুষের উপর গবেষণা চালিয়ে চা ও কফির নতুন গুণ সম্পর্কে গবেষকরা জানতে পেরেছেন। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের বয়স ছিল ২৫ থেকে ৭০ বছর। এর মধ্যে চার লৰ ১০ হাজার নারী-পুরুষ ক্যান্সার মুক্ত ছিলেন। প্রায় সাড়ে আট বছর পর ৩৪৩ জন নারী-পুরুষের ব্রেন টিউমার ধরা পড়েছিল। গবেষকরা অংশগ্রহণকারীদের চা ও কফি পানের অভ্যাসের উপর ভিত্তি করে চার থেকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা করেছিলেন। এদের মধ্যে যে দলের সদস্যরা সবচেয়ে বেশি চা ও কফি পান করেছেন তাদের মস্তিষ্কে ক্যান্সার হয়নি। অপরদিকে ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চা, কফি ইত্যাদি পানীয় পানের অভ্যাস তেমন ছিল না।


রয়টার্স অবলম্বনে

পেট ও কোমরের মেদ কমাবে যেসব খাদ্য

পেট ও কোমরের চতুর্দিকে জমে ওঠা মেদ কমাতে অনেকেই দিনের পর দিন উপোস থাকেন। কঠিন ডায়েটের সাথে ব্যায়ামও করেন কেউ কেউ। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণাগুলোতে দেখা গেছে কোমর ও পেটের মেদ কমাতে গিয়ে নিজেকে অভুক্ত না রাখলেও চলে। যথাযথ নিয়ম মেনে সঠিক খাবার খাওয়ার পাশাপাশি ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করলে উধাও হবে অনাকাঙ্কিত মেদ। পুষ্টিবিদরা বলছেন, কেবল নির্ভেজাল শর্করা অর্থাৎ ভাত, আলু, ময়দার রুটি ইত্যাদি খাদ্য তালিকা থেকে কমিয়ে সবুজ শাকসবজি ও আমিষ জাতীয় খাদ্য খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। শর্করা বা চর্বি জাতীয় খাবার হজম করতে শরীরের শক্তি কম খরচ হয়। অপরদিকে আমিষ জাতীয় খাবার হজম করতে শরীরের শক্তি খরচ হয় বেশি। ফলে আমিষ বা প্রোটিন খেলে শরীরে জমে থাকা চর্বি কমে যায়। কারণ এই চর্বি শরীরকে শক্তি বা ক্যালরির যোগান দেয়। পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা কোমর ও পেটের মেদ কমাতে সাহায্য করে এমন খাবারের একটি তালিকাও প্রকাশ করেছেন। তালিকাটি পাঠকের সুবিধার্থে তুলে ধরা হল -

ডিম : আমিষ বা প্রোটিন সমৃদ্ধ ডিমে রয়েছে অতি প্রয়োজনীয় ভিটামিন বি-১২। এই সসত্দা ও উপাদেয়া খাবারটি পেট ও কোমরের চর্বির ব্যূহে আঘাত করতে সক্ষম। যারা ডিমের কোলেস্টেরল নিয়ে ভয় করেন তাদের প্রতি চিকিৎসকদের বক্তব্য হল, এই কোলেস্টেরল খুব বেশি মাত্রায় ক্ষতিকর নয়। তারপরও যারা অতি সংবেদনশীল তারা ডিমের কুসুম না খেয়ে। সাদা অংশ খেতে পারেন।

কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার :

সম্প্রতি স্থূলতা বিষয়ক একটি গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যেসব নারী নিয়মিত দিনে ৩ থেকে ৪ বার ননীবিহীন দুধ ও চর্বিহীন দই খেয়ে থাকেন তারা নিয়মিত ডায়েট করেন এমন নারীদের তুলনায় ৭০ ভাগ বেশি মেদ কমাতে সৰম হন। চর্বি বা ননীবিহীন দুগ্ধজাত খাবার শরীরে বাড়তি ক্যালসিয়াম সরবরাহ করে যা দাঁত ও হাড়ের স্বাস্থ্যেরও সুরক্ষা দেয়।

শিম জাতীয় খাবার : সব ধরনের শিম জাতীয় খাবারে রয়েছে প্রচুর আমিষ, আঁশ ও লৌহ। শিম ও সয়াবিন রান্না করে সবজি হিসেবে খেলে শরীরের অনাবশ্যক চর্বি কমবে।

যব বা ওটমিল : আজকাল শিশুখাদ্য হিসেবে যব বা ওটমিলের চাহিদা ও জনপ্রিয়তা বেড়েছে। এর কারণ হল যবে রয়েছে প্রচুর আঁশ। এইগুলো শরীরের খারাপ ও দূষিত জিনিষকে বের করে দেয়, পরিপাক যন্ত্র সবল করে এবং মেদ কমায়। যব সেদ্ধ করে মধু ও ননী বিহীন দুধ সহযোগে খাওয়া যায় সকালের নাসত্দার সাথে। এটি শরীরের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে এবং বহুক্ষণ ধরে শক্তি যোগায়।

জলপাই তেল বা অলিভ অয়েল:

কিছু কিছু চর্বি আছে যা শরীরের জন্য ভালো। এ ধরনের চর্বির নাম মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট। জলপাই তেলে এমন উপকারী চর্বি প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। এ ধরনের চর্বি শরীরের পৰে ৰতিকর চর্বি কমায় এবং হৃদস্বাস্থ্য ভালো রাখে।

অপরিশোধিত শস্য বা হোল গ্রেইন : আটা, ঢেঁকিছাঁটা চাল এসব অপরিশোধিত শস্যে রয়েছে প্রচুর আঁশ এবং খনিজ উপাদান। ময়দার পাউরুটি ও রুটি না খেয়ে লাল আটার রুটি ও পাউরম্নটি খেলে মেদ কমে। তাছাড়া মেশিনে পরিশোধিত সাদা চালের ভাত না খেয়ে ঢেঁকিছাঁটা লাল চালের ভাত বেশি পুষ্টিকর। এ ধরনের ভাতে রয়েছে খনিজ উপাদান এবং প্রোটিন। বিশুদ্ধ শর্করা না খেয়ে এমন অপরিশোধিত শর্করাযুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।

মাছ ও মাংস : মুরগি, গরু, ছাগল, ভেড়া ইত্যাদি প্রাণীর মাংসে প্রচুর আমিষ রয়েছে। কিন্তু ভাজা মাংস শরীরের জন্য হিতকর নয়। স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ রান্না মাংস খেলে আমিষের ঘাটতি কেটে যায় এবং মেদও কমে, সামুদ্রিক মাছও হতে পারে আমিষের ভালো উৎস। এ ধরনের মাছে উপকারি চর্বি ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড রয়েছে। মাছ মেদ কমায়, বিষন্নতা দূর করে, হৃদস্বাস্থ্য ভালো রাখে।


দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া অবলম্বনে

তেলাপোকার গুণ

নোংরা চেহারা ও ভীতিকর গঠনের কারণে তেলাপোকার বিশেষ বদনাম রয়েছে। বিশেষ করে তেলাপোকা দর্শনমাত্র গিনি্নদের কানফাটানো চিৎকার ছোট্ট এ প্রাণীকে অচ্ছুত করে রেখেছে সবখানে। তবে এবার জানা গেছে, নোংরা ও কুৎসিত এ প্রাণীটিও মানুষের অভাবিত উপকারে আসতে পারে। এদের শরীরে রয়েছে এমন কিছু উপাদান যা মানুষের শরীরে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ ঠেকাতে বেশ কার্যকর।

যুক্তরাজ্যের নটিংহ্যাম ইউনিভার্সিটির গবেষকরা জানিয়েছেন, তেলাপোকার মস্তিষ্কের কোষে ৯ ধরনের রাসায়নিক অণু পাওয়া গেছে, যা মানুষের শরীরে ই-কোলাই এবং এ ধরনের অন্যান্য ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ ঠেকাতে সক্ষম। গবেষক দলের সদস্য সাইমন লি জানিয়েছেন, তেলাপোকার মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের কোষ মানবদেহের কোনো ক্ষতিসাধন করা ছাড়াই বেশ কিছু ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সারিয়ে তুলতে সক্ষম। সাইমন লি সোসাইটি ফর
জেনারেল মাইক্রোবায়োলজির শরৎকালীন সম্মেলনে এ গবেষণার তথ্য উপস্থাপন করবেন।
গবেষকরা জানিয়েছেন, তেলাপোকার শরীরের উপাদানগুলো কাজে লাগিয়ে নতুন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক উদ্ভাবন করা যেতে পারে। বর্তমানে প্রচলিত ওষুধের বেশির ভাগই তীব্র সংক্রমণের বিরুদ্ধে তেমন একটা কার্যকর নয়। এ ছাড়া প্রচলিত ওষুধের অধিকাংশই মানুষের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করে। কিন্তু তেলাপোকা থেকে পাওয়া উপাদান বেশ কার্যকর এবং সেগুলো দিয়ে একেবারেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াবিহীন ওষুধ তৈরি করা সম্ভব। সূত্র : টেলিগ্রাফ অনলাইন।

অপর্যাপ্ত ঘুম মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ

যেসব তরুণ দৈনিক পাঁচ ঘণ্টার কম সময় ঘুমান তাদের মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ১৭ থেকে ২৪ বছর বয়সী ২০ হাজার অস্ট্রেলীয় নাগরিকের উপর জরিপ চালিয়ে এই তথ্য জানা গেছে। জর্জ ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল হেলথ নামের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এই জরিপ চালায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা পাঁচ ঘণ্টা অথবা তার কম সময় ঘুমান তারা ৮ ও ৯ ঘণ্টা ব্যাপী ঘুমানো মানুষজনের তুলনায় ৩ গুণ বেশি মানসিক রোগে আক্রান্ত হন। 'পি' নামের বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়, যারা পর্যাপ্ত ঘুম থেকে বঞ্চিত হন তারা মানসিক রোগ ছাড়াও হৃদরোগ ও মুটিয়ে যাবার ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। এই গবেষণার প্রধান গবেষক অধ্যাপক লিক গ্লোজিয়ের বলেন, 'একজন তরুণের আদর্শ ঘুমের সময় হচ্ছে দৈনিক ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা।' তবে গত কয়েক দশকে তরুণদের ঘুমের সময়কাল অনেক কমে গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। বর্তমানে নানা ধরনের বিনোদন মাধ্যম ও ডিজিটাল সামগ্রীকে তিনি এর জন্য দায়ী করেছেন। রাত জেগে টেলিভিশন দেখা, ইন্টারনেট নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়া তরুণরা ঘুম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কিন্তু স্কুল, কলেজ ও অফিসের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিছানাও ছাড়তে হচ্ছে তাদের। ফলে ঘুম পর্যাপ্ত হচ্ছে না বেশিরভাগ তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের। এমন কী যারা ছয় ঘণ্টার কম ঘুমান তাদের স্বাস্থ্যও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ধরনের মানুষজন পূর্ণসময় ধরে ঘুমানো মানুষের তুলনায় অধিক মানসিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়। ফলে সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা, দক্ষতা হ্রাস পায় এবং স্ট্রেস বেড়ে যায় মাত্রাতিরিক্ত।


ঘুম বঞ্চিত মানুষের মধ্যে বিষণ্নতাজনিত রোগ 'মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার' বা 'বাইপোলার ডিসঅর্ডার' দেখা দেয়। এ ধরনের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেয়ার পূর্বেই পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে মনে করেন গ্লোজিয়ের। তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে বিষণ্নতা, মাদকাসক্তি, অপরাধ প্রবণতা ও আত্মহত্যার মত ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষজন নিরাময়হীন স্ট্রেসের শিকার হতে পারে। যার ফলে দেখা দিতে পারে হৃদরোগ ও স্থূলতা। এ ধরনের সমস্যা থেকে মুক্ত হতে রাত জেগে অতিরিক্ত টেলিভিশন দেখার অভ্যাস ত্যাগ করা এবং ইন্টারনেট, মোবাইল ইত্যাদি ডিজিটাল সামগ্রী রাতে ঘুমানোর সময় বন্ধ রাখা জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা ও ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় কম পান করারও পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। পর্যাপ্ত ঘুম ঝরঝরে স্বাস্থ্য ও মানসিক অবস্থা নিশ্চিত করে। তাই দৈনিক ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানোর বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন গবেষকরা।


এবিসি নিউজ অনলাইন অবলম্বনে

শিক্ষণ ও স্মৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে স্বপ্ন

ঘুমের ঘোরে দেখা স্বপ্নের কথা মানুষ মনে করতে পারুক বা না পারুক মসত্দিষ্কের স্মৃতি সংরৰণে ও নতুন কিছু শেখার ৰেত্রে স্বপ্নের গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। স্বপ্ন হতে পারে ভয়ের, সুখের, কাম উত্তেজনার কিংবা অস্বস্তিকর। বিখ্যাত মনোবিদ সিগমুন্ড ফ্রয়েড বলেছেন, স্বপ্ন হল সচেতন মনের প্রতি অচেতন মনের বার্তা।

প্রশ্ন উঠেছে স্বপ্ন কী নিছকই মস্তিষ্কের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া ? না-কি এর সত্যি উপকারী দিক রয়েছে। ইদানিং বহু গবেষক বলছেন, স্বপ্ন নতুন ভাবনার জন্ম দেয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন আমরা নতুন যা কিছু শিখছি তাকে সুবিন্যস্ত করে। স্বপ্ন নিয়ে ফয়েডের মনোসমীক্ষণ ও ব্যাখ্যার পর প্রায় এক শতাব্দি কেটে গেছে। তবু স্বপ্ন রহস্যের পুরো সমাধান এখনো পাওয়া যায়নি। গবেষকরা জানিয়েছেন, স্বপ্ন যতই তীব্র ও দীর্ঘ সময়েরই হোক না কেন মানুষ তার খুব অল্প অংশই স্মরণ রাখতে পারে। অনেকে একেবারেই তা ভুলে যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে মানুষ স্বপ্নের কথা মনে করতে পারুক বা না পারুক স্মৃতি ও শিক্ষণো তার ভূমিকা রয়েছে।

গবেষকদের মতে মানুষের ঘুমের তিনটি পর্যায় রয়েছে। হালকা, গাঢ় ও গভীর- সাধারণভাবে এই তিনটি সত্দরে ভাগ করা যায় ঘুমকে। হালকা স্তরের নাম বিজ্ঞানের ভাষায় রেম বা র্যাপিড আই মুভমেন্ট। এ সময় চোখের পাতার নিচে অক্ষিগোলক কাঁপতে থাকে এবং মস্তিষ্কের বেশিরভাগ অংশ সজাগ হয়ে ওঠে। একজন মানুষের ঘুমের শতকরা ২০ ভাগ হল রেম পর্যায়ের ঘুম। বেশির ভাগ স্বপ্ন আমরা এ সময়ই দেখি। এ সময় দেখা স্বপ্ন দীর্ঘস্থায়ী ও দৃশ্যময় হয়। রেম পর্যায়ে দেখা স্বপ্ন আমাদের কিছুটা হলেও মনে পড়ে। কিন্তু গভীর ঘুম বা ওয়েভ ঘুমের সময় দেখা স্বপ্ন মনে করা কঠিন। বস্টনে অবস্থিত হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের গবেষক রবার্ট স্টিকগোল্ড বলেন, 'রেম ঘুমে দেখা স্বপ্ন আবেগের সঞ্চার করে আমাদের মনে। এছাড়া এই পর্যায়ে স্বপ্ন দেখার সময় জাগ্রত অবস্থার চাইতেও মস্তিস্ক বেশি সচল থাকে। ফলে আমরা সহজেই স্মৃতি, আবেগ ইত্যাদি সঞ্চয় করতে পারি মস্তিষ্কের ভেতর।' অপর দিকে গভীর ঘুমে দেখা স্বপ্ন আমরা তেমন মনে করতে পারি না বলে জানিয়েছেন তিনি।

স্বপ্ন দেখার সময় মসত্দিষ্কের একটি অংশ অপর একটি অংশের কাছে অর্জিত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এবং তাকে স্মৃতিতে পরিণত করে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক জোনাথন উইনসন। তিনি বলেন, 'মস্তিষ্কের 'হিপ্পোক্যাম্পাস' দিনের অর্জিত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে 'নিউকর্টেক্সের' কাছে। এভাবে অভিজ্ঞতাকে শিক্ষায় পরিণত করতে সাহায্য করে স্বপ্ন। নিউরোসায়েন্টিস্ট ও মলিকু্যলার বায়োলজিস্ট ফ্রাঙ্কিস ফ্রিক বলেন, 'আমরা স্বপ্নের মাধ্যমে যেমন গুরম্নত্বপূর্ণ স্মৃতি ফিরে পাই ঠিক তেমনটি বেদরকারী ও অস্বস্তিকর স্মৃতিকেও ঝেটিয়ে বিদায় করি।' স্বপ্ন কী করে আমাদের অজান্তেই একটি স্মৃতিকে জাগ্রহ করে তার উদাহরণও দিয়েছেন গবেষকরা। হার্ভার্ডের গবেষক স্টিকগোল্ডের মতে, জাগ্রত অবস্থায় মস্তিষ্ক যে সমস্যার সমাধান করতে পারে না স্বপ্ন তা অনেক সময় করে দেখায়। তিনি বলেন, 'অনেক সময় এমন হয় যে আপনি কোনো ব্যক্তির নাম ভুলে গেলেন। সারা দিনেও তা মনে পড়লো না। বিষয়টি মাথার মধ্যে সেভাবেই রয়ে গেল দিনভর। কিন্তু রাতে স্বপ্নের সময় মস্তিষ্কের অতি সক্রিয় অবস্থা ঠিক স্মৃতি থেকে খুঁজে বের করবে সেই নাম। যা সকালে ঘুম ভেঙে আপনার মনে পড়ে যেতে পারে।'


এবিসি সায়েন্স নিউজ অনলাইন

ওজন নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারার কয়েকটি প্রধান কারণ

অব্যাহত ডায়েটিং করার পরও ওজন কমাতে পারছেন না অনেকেই। সম্প্রতি গবেষকরা ওজন কমানো কঠিন হয়ে ওঠার পেছনে কিছু কারণ চিহ্নিত করেছেন। এসব বিষয়ে সচেতন হয়ে উঠতে পারলে ওজন কমানোর লড়াই অনেকটা সহজ হয়ে উঠবে বলে দাবি করেছেন গবেষকরা। ওজন নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারার কারণগুলো হল-

স্বল্প নিদ্রা বা ঘুমের সমস্যা : ব্যস্ত নাগরিক জীবন ঘুম কেড়ে নিচ্ছে নাগরিকদের চোখ থেকে। স্বল্প নিদ্রা নগরজীবনের একটি প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুস্থ জীবন যাপনের জন্য দৈনিক ৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন একজন মানুষের। কিন্তু এমন সময় ধরে ঘুমাতে পারেন অল্প ক'জনই। ঘুম অসমাপ্ত রেখে যারা বিছানা ছাড়েন তাদের শরীরে স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায় অস্বাভাবিকভাবে। শরীর এই অবস্থা মোকাবিলা করার জন্য দ্রুত মেদ সঞ্চয় করতে থাকে। ফলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে মুটিয়ে যাবার সম্ভাবনা প্রবল। নিয়মিত ৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম ওজন বাড়ানোর সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে। কম ঘুমের কারণে অনাবশ্যক ক্লান্ত দেখা দেয়। ফলে শরীরে শক্তির চাহিদা বেড়ে যায়। শক্তির এই চাহিদা পূরণে শরীর বাড়তি ক্যালরি সঞ্চয় করে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

স্ট্রেস : দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস বা মনোদৈহিক চাপ শরীরের বিপাকক্রিয়ার গতি মন্থর করে তোলে। ফলে দৈনিক খাদ্য তালিকায় ক্যালরি না বাড়লেও মন্থর বিপাকক্রিয়ার কারণে মেদ সঞ্চয় হতে থাকে। এমন মেদ সঞ্চিত হয় কোমরের চারপাশে। ফলে কোমরের চারপাশে হুট করে বাড়তি মেদ সঞ্চয় হতে থাকলে সতর্ক হতে হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে নিজের স্ট্রেসের পরিমাণ কমানোর কথা ভাবতে হবে। প্রথমেই স্ট্রেসের উৎস চিহ্নিত করে তারপর স্ট্রেস নির্মূলের কাজ শুরু করতে হবে। স্ট্রেস কমাতে না পারলে ডায়েটিং করেও ফল পাওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

ওষুধ : এমন কিছু ওষুধ রয়েছে যেগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে ওজন বেড়ে যায়। বিষণ্নতাবিরোধী ওষুধ, মাইগ্রেন কমানো ওষুধ এবং কিছু কিছু উচ্চ রক্তচাপবিরোধী ওষুধ ওজন বাড়িয়ে দেয় বলে জানা গেছে। এসব ওষুধ সেবনের পর রুচি বেড়ে যায় যার কারণে ওজন বাড়ার মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমন সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ কোন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলে ওজন বাড়ছে তা সেবনকারীর পক্ষে জানা সম্ভব নয়।

স্বাস্থ্যগত কারণ : অনেক সময় শারীরিক কিছু সমস্যা বা অবস্থার কারণেও ওজন বাড়তে পারে। শরীরে থায়রয়েড হরমোনের ঘাটতি দেখা দিলে ওজন বাড়তে পারে। এ ধরনের সমস্যাকে হাইপো-থায়রয়েডিজম বলা হয় চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়। এই সমস্যায় আক্রান্ত হলে রুচি কমে যায়, ঘুমের মাত্রা বেড়ে যায় এবং শরীরের বিপাকক্রিয়ার গতি অত্যন্ত মন্থর হয়ে পড়ে। ফলে ওজন বাড়তে থাকে দ্রুত। হাইপো-থায়রয়েডিজমের কারণে যাদের ওজন বাড়ছে তারা দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করে যথাযথ চিকিৎসা নিলে রোগটি নিয়ন্ত্রণে আসবে। বাড়তি ওজনের সমস্যাও মোকাবিলা সহজ হবে।

দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া অবলম্বনে

ওষুধ ছাড়াই বিষণ্নতা দূর করা সম্ভব

বিশ্বজুড়ে বিষণ্নতায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দিন দিনই বাড়ছে। প্রতিযোগিতামূলক আধুনিক বিশ্বে কর্মব্যস্ততার চাপ কেড়ে নিয়েছে মানুষের প্রাণচাঞ্চল্য ও মুখের হাসি। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তনই বিষণ্নতা রোগের মূল কারণ। যুক্তরাজ্যের মোট জনসংখ্যার ২০ থেকে ৩০ ভাগ পূর্ণবয়স্ক মানুষই বিষণ্নতার শিকার। গত কয়েক দশক পূর্বে এই রোগে আক্রান্তের হার ছিল অর্ধেকের মত। যুক্তরাষ্ট্রের কনসাস শহরে বসবাসকারী মনোবিদ ড. স্টিভ ইলার্ডি বিষণ্নতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন। বিষণ্নতার উপসর্গকে মানবমস্তিষ্ক শারীরিক ব্যথা বেদনা বা প্রদাহ বলে ভুল করে। ইলার্ডির মতে তখন মানুষ নিজেকে পরিপার্শ্ব থেকে গুটিয়ে নেয় এবং একা থাকতে চায়। এতে আরো প্রকট হয় বিষণ্নতার উপসর্গ। তার মতে, বিষণ্নতায় আক্রান্ত ব্যক্তির উচিত অধিকহারে মানুষের সাথে মেলামেশা করা। ইলার্ডি বলেন, 'অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিষণ্নতার রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ মত ওষুধ সেবন করেন এবং কোনো উপকার পান না। ক্ষেত্র বিশেষে রোগটা আরো তীব্র আকারে ফিরে আসে। তাছাড়া যৌন অক্ষমতা, আবেগের ভারসাম্যহীনতা এবং ওজন বাড়ার মত মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে বিষণ্নতা বিরোধী ওষুধের।' ওষুধ ছাড়াই জীবন-যাপন এবং চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন এনে বিষণ্নতা দূর করা শ্রেয় বলে মনে করেন তিনি।


কনসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইলার্ডি ওষুধ ছাড়াই বিষণ্নতা দূর করার একটি চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। থ্যারাপিউটিক লাইফ স্টাইল চেঞ্জ বা টিএলসি নামের এই চিকিৎসাপদ্ধতিতে জীবন-যাপনের ধারা পাল্টানোর মাধ্যমে বিষণ্নতা দূর করা হয়। বিষন্নতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রথমেই তিনি এর মূল কারণ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দেন। তার মতে বিষণ্নতার আসল কারণ লুকিয়ে আছে আমাদের জীবন-যাপনের মধ্যে। তিনি বলেন, 'আমাদের জীবনযাপনের মান অতি দ্রম্নত উন্নত হয়েছে প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সাথে সাথে। কিন্তু সেই সাথে জীবনে তৈরি হয়েছে কিছু চোরাবালির। মানুষ প্রকৃতিগতভাবে গৃহাভ্যন্তরের জীব নয়। পাশাপাশি তাকে পেশার স্বার্থে সামাজিক যোগাযোগ ছাড়তে হচ্ছে। ঘুম কমাতে হচ্ছে এবং একটা নিরানন্দ জীবনের ঘানি টেনে যেতে হচ্ছে। তাই বিষণ্নতা উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে।'

ড. স্টিভ ইলার্ডি তার সম্প্রতি প্রকাশিত বইতে উলেস্নখ করেছেন, পৃথিবীর পরিবেশ ও মানুষের সভ্যতা যেভাবে দ্রুত পাল্টে গেছে তার সঙ্গে মানবদেহ পালস্না দিয়ে বদলায়নি। গত ১২ হাজার বছরে মানুষের শরীরে এক ইঞ্চিও পরিবর্তন সাধিত হয়নি। তিনি বলেন ,'জৈবিকভাবে আমাদের দেহ এখনো প্রস্তরযুগের সংগ্রামমুখর সময়ের মধ্যেই আটকে আছে। এই আদিম দেহ যখনই আধুনিক পরিবেশের ভেতরে প্রবেশ করেছে তখন থেকেই বিষণ্নতার শুরম্ন।' পরিশ্রম উপযোগী করে তৈরি এই দেহটি এখন শ্রমবিযুক্ত পেশার সঙ্গে যুক্ত হয়ে হারিয়ে ফেলেছে নিজের গতি ও অভ্যনত্দরীণ শক্তি। তার মতে, মানবদেহের যে গঠন সেটা রক্ষা করে চলতে হলে একজন মানুষকে প্রচন্ড শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। তাজা ফলমূল ও ভিটামিন সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক খাবার খেতে হবে এবং দশ ঘণ্টা সময় ধরে ঘুমাতে হবে। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যভ্যাস, পরিশ্রমহীনতা এবং স্বল্প সময়ের ঘুমে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষ। এমন কী আধুনিক মানুষ পর্যাপ্ত সূর্যালোকের সংস্পর্শে পর্যন্ত আসে না। মনোরোগ ও মনোবিকলনের এটাই কারণ বলে মনে করেন তিনি।

পৃথিবীতে এখনো যেসব আদিবাসী জনগোষ্ঠী রয়েছে তাদের মধ্যে বিষণ্নতার হার শূন্যভাগ। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে আধুনিক জীবন যাপন কতটা ত্রুটিপূর্ণ। ইলার্ডি বিষণ্নতা দূর করতে কমপৰে ৮ ঘণ্টা ঘুম, পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম, প্রচুর তাজা ফলমূল এবং মাছ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, পাশাপাশি সূর্যালোকের সংস্পর্শে দিনের একটা সময় ব্যয় করারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, চিন্তাধারা থেকে না বোধক ভাবনা ঝেটিয়ে বিদায় করাও গুরম্নত্বপূর্ণ। এ ধরনের পরামর্শ মেনে চললে বিষণ্নতা থেকে দ্রুত মুক্তিলাভ সম্ভব। খাদ্য তালিকা থেকে ফাস্টফুড বিদায় করতে হবে সর্বাগ্রে। যোগ করতে হবে ফলমূল ও মাছ। ফলে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং মাছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড। এদু'টি উপাদান শরীরকে চনমনে ও উচ্ছ্বল রাখে। বিষণ্নতাকে বিদায় জানাতে এ ধরনের জীবনাভ্যাস গড়ে তোলার বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।

মস্তিষ্কে নতুন ভাবনার উন্মেষ রুদ্ধ করছে ডিজিটাল সামগ্রী

মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, গেমার, আইপড, ইন্টারনেট, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সামগ্রীর উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে বাধাগ্রস্তহয় মানব মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড। যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোতে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার একদল গবেষক ইঁদুরের উপর গবেষণা চালিয়ে দেখেছেন, ইঁদুরেরা যখনই কোনো নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয় তখন তাদের মস্তিষ্কে নতুন ধরনের আলোড়ন তৈরি হয়। কিন্তু এই আলোড়ন তখনই স্থায়ী স্মৃতিতে রূপ নেয় যখন ইঁদুরের মস্তিষ্ক অবসর পায়। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লরেন ফ্রাঙ্ক বলেন, 'ডিজিটাল সামগ্রীর কারণে মানুষের মস্তিষ্ক সর্বক্ষণ ব্যস্ত থাকে। এমন কী অবসরের সামান্য দু এক মিনিট সময়ও কেড়ে নেয় ইন্টারনেট কিংবা আইফোন। ফলে মস্কিষ্ক নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। তৈরি হয় অনাবশ্যক ক্লান্তি। 'তার মতে, আমাদের মস্তিষ্ক সচল থাকার সময় যে সব অভিজ্ঞতা হয় সেসব অভিজ্ঞতা মস্তিষ্ক অলস বা বিশ্রামরত অবস্থায় থাকার সময় অনেক ভালোভাবে বিন্যস্ত হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিতে রূপ লাভ করে। এই গবেষণার সাথে যুক্ত গবেষকরা ইঁদুরের উদাহরণ টেনে বলছেন, তারাও একইভাবে স্মৃতিকে কাজে লাগিয়ে নতুন কিছু শেখে। তাই নতুন চিন্তার স্ফুরণ কিংবা শিক্ষণের ক্ষেত্রে ডিজিটাল সামগ্রীর এমন অতিরিক্ত ব্যবহার ক্ষতিকর বলে মনে করছেন তারা।

মোবাইল কিংবা সেলফোন কোম্পানিগুলো বর্তমানে তাদের নিত্যনতুন ব্র্যান্ডের সেটে সংযোজন করছেন অকল্পনীয় সব সুবিধা। বোতান টিপলেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে খুলে যাচ্ছে তথ্যের জগৎ। পাশাপাশি ইমেইল চেক করার সুবিধা থেকে শুরম্ন করে গেম খেলা, রেডিও শোনা এমন কী টেলিভিশন কিংবা সদ্য মুক্তি পাওয়া হলিউডের সিনেমা দেখারও সুযোগ মিলছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। পাশ্চাত্যের সিংহভাগ মানুষের অভ্যাস ঘুম ভেঙেই ফোনের মনিটরের দিকে তাকানো। এছাড়া টয়লেট, প্রাতরাশের টেবিল, ব্যায়ামাগার কিংবা দোকানের লাইনে দাঁড়িয়েও চলছে ইন্টারনেট ব্রাউজিং কিংবা ফোনালাপ। আধুনিক ব্যায়ামাগারগুলোর যন্ত্রের সঙ্গে বর্তমানে আইপড, টেলিভিশন মনিটর ও গেমার সংযুক্ত থাকে। ফলে জাগ্রত অবস্থায় থাকা মুহূর্তগুলোর সিংহভাগ সময়ই ব্যসত্দ থাকছে মস্তিষ্ক। অফিস বা কর্মক্ষেত্রে ডিজিটাল যন্ত্রের ব্যবহার এখন শতভাগ। তাই মস্তিষ্ক অবসর পাচ্ছে না কখনোই।

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, কোনো মানুষ যখন প্রাকৃতিক শোভামণ্ডিত কোনো পরিবেশে হেঁটে বেড়ায় তখন সে অনেক বেশি শিখে। অপরদিকে দালান কোঠা পরিবেষ্টিত নগরের রাসত্দায় হাঁটার সময় মস্তিষ্কের শিক্ষণ প্রক্রিয়া সেভাবে কাজ করে না। এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তারা বলেছেন, শহরের রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় এত সব তথ্য মানুষকে হজম করতে হয় যার কারণে মস্তিষ্ক হয়ে পড়ে তথ্যভারাক্রান্ত। ফলে দ্রুতই ক্লান্তি ভর করে। এমন কী যখন মানুষ কর্মক্ষেত্রের বাইরে খুব গা-ছাড়াভাবে সময় কাটায় তখনও মস্তিষ্ক ক্লান্ত হওয়ার হাত থেকে রেহাই পায় না। মিশিগানের গবেষকরা উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, 'ধরুন আপনি বাসস্টপে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। এ সময়টা কাজে লাগানোর কথা ভেবে মোবাইলে ডাউনলোড করছেন কোনো গান কিংবা ভিডিও ক্লিপ। আপনি ভাবতে পারেন এভাবে সহজেই সতেজ হওয়া গেল, পাওয়া গেল একটু বিনোদন কিন্তু তা সঠিক নয়। নিজের অজান্তেই আপনি মস্তিকে ব্যতিব্যস্ত রেখে ক্লান্তই করে তুলছেন তাকে।

হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের মনস্তত্ত্ব বিভাগের সহকারী ক্লিনিক্যাল প্রফেসর জন জে রেটি বলেন, 'ব্যায়াম আমাদের জীবনের অংশ হয়ে ওঠা উচিত। আমাদের শুয়ে বসে কাটানো জীবন থেকে শরীরচর্চার মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে হবে।' তিনি আধুনিক ব্যায়ামাগারগুলোতে যেসব ব্যবস্থা রয়েছে তার অনাবশ্যকতা তুলে ধরেন। তার মতে, ডিজিটাল সামগ্রীকে পেছনে ফেলে এসব থেকে ছুটি নিয়ে প্রকৃতির মাঝে হাঁটা কিংবা দৌড়ানোই হল সবচেয়ে উপকারী শরীরচর্চা। এখনকার বহু গবেষকই রেটির সঙ্গে গলা মিলিয়ে ডিজিটাল পণ্যের উপর নির্ভরশীলতা কমানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। জীবনকে আরো নতুন ভাবনা ও সৃজনশীলতা দিয়ে সাজাতে হলে এসব যন্ত্র-নির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে বলে মনে করেন তারা।


দ্য নিউইয়র্ক টাইমস অবলম্বনে