RSS

হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখতে মেনে চলুন ১০টি পরামর্শ

সুস্থ সবল হৃৎপিণ্ড দীর্ঘ জীবনের চাবিকাঠি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিযোগিতাপূর্ণ দ্রুত নাগরিক জীবনে বাড়ছে কাজের চাপ ও স্ট্রেস। পাশাপাশি ফাস্টফুড বা দ্রুত খাবারে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সিংহভাগ মানুষ। গবেষকরা বলছেন ক্রমাগত স্ট্রেসের মধ্যে থাকলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। দেখা দেয় উচ্চ রক্তচাপের মত শারীরিক উপসর্গ। বর্তমানে তরুণরাও উল্লেখযোগ্য হারে হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে স্ট্রেসের পরিমাণ কমানো, ধূমপান ত্যাগ, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা। সুস্থ হৃৎপিণ্ডের জন্য ১০টি পরামর্শ মেনে চলার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা। এগুলো হল-

ধূমপান ত্যাগ : ধূমপান ১৫ থেকে ২৫ বছর আয়ু কমিয়ে দেয়। যদি কেউ ধূমপায়ী হয় তবে তার হার্ট এটাকের আশংকা অধূমপায়ীর তুলনায় দ্বিগুণ। তবে যখন থেকেই ধূমপানের অভ্যাস কেউ ত্যাগ করবে তখন থেকেই হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যাবে অনেকাংশে।

লবণ কম খাওয়ার অভ্যাস : লবণ রক্তচাপ বাড়ায়। তাই খাবারের সঙ্গে বাড়তি লবণ খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে দ্রুত।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস : সুস্থ হৃৎপিণ্ডের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। মাছ, ফল-মূল ও শাক-সব্জি বেশি পরিমাণ খেতে হবে। খুব বেশি শর্করা ও মাংস জাতীয় খাবার খাওয়া যাবে না।

মদ্যপান নিষেধ : খুব বেশি মদ্যপান করলে হৃদপেশি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এছাড়া নিয়মিত মদ্যপানে ওজন বাড়ে ও রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। তাই সুস্থ হৃৎপিণ্ডের জন্য মদ্যপানের অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।

সক্রিয় থাকুন : ব্যায়াম করম্নন কিংবা শারীরিক পরিশ্রম হয় এমন কাজ করুন প্রতিদিন। সচল ও সক্রিয় না থাকলে শরীরের বিপাক ক্রিয়ার গতি মন্থর হয়ে যায়। ঝুঁকি বাড়ে হৃদরোগের।

রক্তচাপ, রক্তশর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়মিত পর্যবেৰণ করতে হবে।

সুস্থ আছেন কী-না সেটা জানাও জরুরি। হৃৎপিণ্ড ক্ষতিগ্রসত্দ হওয়ার আগে রক্তচাপ, রক্তশর্করা বা বস্নাড সুগার ও কোলেস্টেরলের মাত্রা অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে। এসব শারীরিক অবস্থা তাই সব সময় পর্যবেৰণ করতে হবে। নিয়মিত চেকআপ করলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

কোমরের চর্বি কমান : কোমরের মাপ বড় হলে এর চারপাশে চর্বির স্তর পড়লে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই কোমর সরু রাখা জরুরি।

স্ট্রেস কমান : আপনি যখন খুব ব্যস্ত থাকেন তখন নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া না হলেও ধূমপানের পরিমাণ হয়ত বেড়ে যায়। এটা চরম স্ট্রেসের লক্ষণ। স্ট্রেস কমাতে নিয়মিত ৮ ঘণ্টা ঘুম ও যোগ ব্যায়াম করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

পারিবারিক ইতিহাস জানুন : আপনার পরিবারে যদি হৃদরোগের ইতিহাস থাকে, যদি বাবা মায়ের এই রোগ থেকে থাকে তবে আপনারও এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। কাজেই অন্যদের তুলনায় আপনাকে অনেক বেশি সতর্ক হতে হবে।

হাসুন : হাসি হলো মহৌষধ। হাসতে পারা ও হাসির উপলৰ তৈরি করা জরম্নরি। এতে মন হালকা হয়। স্ট্রেস কমে।


দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া অবলম্বনে

হৃদরোগ ও বিষণ্নতা এক হলে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায় বহুগুণ

হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুঝুঁকি সাধারণের তুলনায় বহুগুণ বেশি। কিন্তু এর সঙ্গে যদি বিষণ্নতা যুক্ত হয় তবে মৃতু্যঝুঁকি বেড়ে যায় আরো কয়েকগুণ। সম্প্রতি বেশ কয়েক বছর ধরে ব্রিটিশ ও ফরাসি গবেষকরা প্রায় ৬ হাজার মানুষের উপর গবেষণা চালিয়ে এ তথ্য পেয়েছেন। গবেষকদের মতে, কেবলমাত্র হৃদরোগে আক্রান্তদের তুলনায় হৃদরোগ ও বিষণ্নতা উভয় রোগে আক্রানত্দদের মৃত্যুঝুঁকি ৪ গুণ বেশি। 'হার্ট জার্নাল' নামের একটি চিকিৎসা সাময়িকীতে প্রকাশিত এই প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে গবেষকরা প্রায় ৬ হাজার মধ্যবয়স্ক মানুষের ওপর পাঁচ বছর ধরে সমীক্ষা চালিয়েছেন।

'ব্রিটিশ হোয়াইট হল স্টাডির' অধীনে দু'দেশের গবেষকরা এই গবেষণায় অংশ নেন। স্বাস্থ্যের উপর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবকগুলোর প্রতিক্রিয়া জানতে ব্রিটিশ সরকার এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ ও ফ্রান্সের ভার্সাই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এই গবেষণায় অংশ নেন। প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ধরে চলা এই গবেষণায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যারা অংশ নিয়েছেন তারা প্রধানত মধ্যবয়সী সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী ছিলেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা হৃদরোগে আক্রান্ত তারা সুস্থ মানুষের তুলনায় ৬৭ ভাগ বেশি মৃত্যুঝুঁকিতে থাকেন। কিন্তু এর সঙ্গে যদি বিষণ্নতা যুক্ত হয় তবে মৃত্যুঝুঁকির হার তিনগুণ বৃদ্ধি পায়। ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের সিনিয়র নার্স এমি হমসন বলেন, 'ইতোপূর্বে বিষণ্নতার সাথে হৃদরোগের সম্পর্ক নিয়ে যে গবেষণা হয়েছিল এই গবেষণা তারই ধারাবাহিকতায় হয়েছে। বিষণ্নতার সাথে এমনিতেই হৃদরোগের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু যদি উভয়রোগের সম্মিলন ঘটে কারো মধ্যে তবে মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।'

এ ধরনের মারাত্মক পরিস্থিতি এড়াতে হলে প্রথমেই নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। বিষণ্নতাকে অবহেলা না করে দ্রম্নত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার আহবান জানিয়েছেন তারা। নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ও ইতিবাচক ভাবনা পাল্টে দিতে পারে জীবনধারা। চিকিৎসকের পরারর্শ মেনে হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে রেখে এমন জীবনাভ্যাস রপ্ত করতে পারলে মৃত্যুঝুঁকি অনেকগুণ কমে যাবে বলে মনে করেন তারা।

মেদ কমানোর জন্য রাতের খাবার বাদ দেয়া যাবে না

যারা মেদ কামানোর জন্য রাতের খাবার ছেড়ে দিয়েছেন তারা নিজেদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছেন। সম্প্রতি এক গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা বলেছেন, রাতে ঘুমানোর আগে হালকা কিছু খেয়ে নেয়া ভালো। গবেষকরা বলছেন- সকালের নাস্তা যদি রাজার মতও হয় তবু রাতে কিছু না কিছু খেতে হবে। ঘুমানোর আগে কার্বহাইড্রেট ও প্রোটিন সমৃদ্ধ হালকা খাবার খেলে ওজন কমে এবং শরীরও ভালো থাকে বলে মনে করছেন তারা। তারা নাস্তা হিসেবে রাতের খাবারকে দেখতে বলেছেন। দই, কম চর্বিযুক্ত পনির, সিরিয়াল ও ফল রাখা যেতে পারে রাতের খাবারের তালিকায়। রাতে শর্করা বা কার্বহাইড্রেট খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে ও ওজন কমে।

ফিটনেস এক্সপার্টদের মতে, আমাদের খাদ্যের ৫৫ থেকে ৬০ ভাগ হওয়া উচিত শর্করা। কারণ শরীরের প্রধান শক্তির উৎস এটাই। শর্করা সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে বিশেষ করে শাক-সবজি ও ফলের মধ্যে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ও আঁশ জাতীয় উপাদান। গবেষকদের মতে, দানা শস্য, শিম, ফল এবং শাক-সবজি খুব ধীরে রক্তে শর্করা ছড়ায়। ফলে রক্ত-শর্করা বা ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে বহুক্ষণ। ভারতীয় পুষ্টিবিদ রিতিকা সামাদ্দার বলেন, 'স্বাস্থ্যকর খাবারে আমিষ এবং শর্করা যথাযথ পরিমাণে থাকে। শুধু সালাদ কিংবা সু্যপ আদর্শ খাবার হতে পারে না। শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ ও ভিটামিন এতে থাকে না।' তিনি বলেন, 'সু্যপ দিয়ে খাবার শুরু করুন, তারপর ফিরে যান প্রতিদিনকার নিয়মিত খাদ্য তালিকায়।' প্রক্রিয়াজাত বা তৈরি খাবার স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এ ধরনের খাবার বস্নাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। ফলে শরীরে ক্লান্তি ও ক্ষুধা বোধ হয়।

সম্প্রতি আমেরিকান জার্নাল অফ মেটাবলিজম সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানা গেছে, যে কোনো এক বেলার খাবার না খেয়ে অন্য কোনো সময় এক সাথে বেশি খেলে হজমে সমস্যা হয় এবং ইনসুলিন ঠিক মত কাজ করে না। ফলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

গবেষকদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যত বেলা বাড়তে থাকে ততই শরীরের বিপাক ক্রিয়ার গতি মন্থর হতে থাকে। তাই রাতের খাবারে আদর্শ সময় হল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে রাত আটটা। খাওয়ার পর পরই ঘুমানো ভালো নয়। এতে শরীর অত্যধিক মেদ সঞ্চয় করে।

যারা মেদ কমানোর জন্য লড়ছেন তাদের জন্য আদর্শ রতের খাবার হতে পারে, চাপাতি বা রুটি, ডাল , সবজি। এছাড়া শিমের তৈরি খাবার ও সু্যপও থাকতে পারে সাথে।


দ্য টইমস অফ ইন্ডিয়া অবলম্বনে

ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি কমায় চা ও কফি


অতিরিক্ত চা বা কফিপায়ীদের জন্য সুখবর। যারা নিয়মিত চা ও কফি পান করেন তাদের মস্তিষ্কে টিউমার হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় কম। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই তথ্য জানা গেছে। পাঁচ লৰাধিক প্রাপ্তবয়স্ক ইউরোপীয় নাগরিকের উপর গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে, প্রায় ৮০ ভাগ ৰেত্রে যে ধরনের ব্রেন টিউমার হয় মানব মস্তিষ্কে সেরকম ব্রেন টিউমারে ঝুঁকি চা ও কফি কমিয়ে দেয়। গ্লিওমাস নামের এ ধরনের ব্রেন টিউমারেই মানুষ আক্রান্ত হয় বেশি। কিন্তু চা ও কফি নিয়মিত পান করলে গ্লিওমাস টিউমারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। তবে এই গবেষণা এটা প্রমাণ করে না যে, পানীয় দু'টোর অত্যাশ্চর্য ক্ষমতা রয়েছে বা এসব পান করলে ব্রেন টিউমারের বিরুদ্ধে শরীরে প্রতিরোধ তৈরি হবে। লন্ডনের ইম্পিরিয়াল কলেজের গবেষক ডমিনিখ মিখাউদ বলেন, 'এটা খুব প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণা তাই এই গবেষণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে কেউ চা ও কফিতে আসক্ত হয়ে উঠলে ভুল হবে।' গবেষকদের মতে, চা ও কফির প্রভাব যদি ব্রেন টিউমারের উপর থাকেও তবে তা অতি নগণ্য। ইউরোপে ব্রেন টিউমারে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কম। প্রতি এক লাখ ইউরোপবাসীর মধ্যে চার থেকে ছয়জন নারী এবং ছয় থেকে আটজন পুরুষ ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়। সব মিলিয়ে একজন ইউরোপবাসীর ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি এক শতাংশেরও কম। তবে তারপরও যারা খুব বেশি পরিমাণ কফি ও চা পান করেন তাদের ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি কমে যায় বলে জানিয়েছেন গবেষক ডমিনিখ। তিনি বলেন, 'ঠিক কী কারণে ব্রেন ক্যান্সার হয় আমরা জানি না তাই এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলাও সম্ভব হয়নি।

আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন নামের গবেষণা সাময়িকীতে এই সংক্রান্ত নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়। ৫ লৰ ২১ হাজার ৪৮৮ জন নারী এবং পুরুষের উপর গবেষণা চালিয়ে চা ও কফির নতুন গুণ সম্পর্কে গবেষকরা জানতে পেরেছেন। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের বয়স ছিল ২৫ থেকে ৭০ বছর। এর মধ্যে চার লৰ ১০ হাজার নারী-পুরুষ ক্যান্সার মুক্ত ছিলেন। প্রায় সাড়ে আট বছর পর ৩৪৩ জন নারী-পুরুষের ব্রেন টিউমার ধরা পড়েছিল। গবেষকরা অংশগ্রহণকারীদের চা ও কফি পানের অভ্যাসের উপর ভিত্তি করে চার থেকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা করেছিলেন। এদের মধ্যে যে দলের সদস্যরা সবচেয়ে বেশি চা ও কফি পান করেছেন তাদের মস্তিষ্কে ক্যান্সার হয়নি। অপরদিকে ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চা, কফি ইত্যাদি পানীয় পানের অভ্যাস তেমন ছিল না।


রয়টার্স অবলম্বনে

পেট ও কোমরের মেদ কমাবে যেসব খাদ্য

পেট ও কোমরের চতুর্দিকে জমে ওঠা মেদ কমাতে অনেকেই দিনের পর দিন উপোস থাকেন। কঠিন ডায়েটের সাথে ব্যায়ামও করেন কেউ কেউ। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণাগুলোতে দেখা গেছে কোমর ও পেটের মেদ কমাতে গিয়ে নিজেকে অভুক্ত না রাখলেও চলে। যথাযথ নিয়ম মেনে সঠিক খাবার খাওয়ার পাশাপাশি ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করলে উধাও হবে অনাকাঙ্কিত মেদ। পুষ্টিবিদরা বলছেন, কেবল নির্ভেজাল শর্করা অর্থাৎ ভাত, আলু, ময়দার রুটি ইত্যাদি খাদ্য তালিকা থেকে কমিয়ে সবুজ শাকসবজি ও আমিষ জাতীয় খাদ্য খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। শর্করা বা চর্বি জাতীয় খাবার হজম করতে শরীরের শক্তি কম খরচ হয়। অপরদিকে আমিষ জাতীয় খাবার হজম করতে শরীরের শক্তি খরচ হয় বেশি। ফলে আমিষ বা প্রোটিন খেলে শরীরে জমে থাকা চর্বি কমে যায়। কারণ এই চর্বি শরীরকে শক্তি বা ক্যালরির যোগান দেয়। পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা কোমর ও পেটের মেদ কমাতে সাহায্য করে এমন খাবারের একটি তালিকাও প্রকাশ করেছেন। তালিকাটি পাঠকের সুবিধার্থে তুলে ধরা হল -

ডিম : আমিষ বা প্রোটিন সমৃদ্ধ ডিমে রয়েছে অতি প্রয়োজনীয় ভিটামিন বি-১২। এই সসত্দা ও উপাদেয়া খাবারটি পেট ও কোমরের চর্বির ব্যূহে আঘাত করতে সক্ষম। যারা ডিমের কোলেস্টেরল নিয়ে ভয় করেন তাদের প্রতি চিকিৎসকদের বক্তব্য হল, এই কোলেস্টেরল খুব বেশি মাত্রায় ক্ষতিকর নয়। তারপরও যারা অতি সংবেদনশীল তারা ডিমের কুসুম না খেয়ে। সাদা অংশ খেতে পারেন।

কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার :

সম্প্রতি স্থূলতা বিষয়ক একটি গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যেসব নারী নিয়মিত দিনে ৩ থেকে ৪ বার ননীবিহীন দুধ ও চর্বিহীন দই খেয়ে থাকেন তারা নিয়মিত ডায়েট করেন এমন নারীদের তুলনায় ৭০ ভাগ বেশি মেদ কমাতে সৰম হন। চর্বি বা ননীবিহীন দুগ্ধজাত খাবার শরীরে বাড়তি ক্যালসিয়াম সরবরাহ করে যা দাঁত ও হাড়ের স্বাস্থ্যেরও সুরক্ষা দেয়।

শিম জাতীয় খাবার : সব ধরনের শিম জাতীয় খাবারে রয়েছে প্রচুর আমিষ, আঁশ ও লৌহ। শিম ও সয়াবিন রান্না করে সবজি হিসেবে খেলে শরীরের অনাবশ্যক চর্বি কমবে।

যব বা ওটমিল : আজকাল শিশুখাদ্য হিসেবে যব বা ওটমিলের চাহিদা ও জনপ্রিয়তা বেড়েছে। এর কারণ হল যবে রয়েছে প্রচুর আঁশ। এইগুলো শরীরের খারাপ ও দূষিত জিনিষকে বের করে দেয়, পরিপাক যন্ত্র সবল করে এবং মেদ কমায়। যব সেদ্ধ করে মধু ও ননী বিহীন দুধ সহযোগে খাওয়া যায় সকালের নাসত্দার সাথে। এটি শরীরের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে এবং বহুক্ষণ ধরে শক্তি যোগায়।

জলপাই তেল বা অলিভ অয়েল:

কিছু কিছু চর্বি আছে যা শরীরের জন্য ভালো। এ ধরনের চর্বির নাম মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট। জলপাই তেলে এমন উপকারী চর্বি প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। এ ধরনের চর্বি শরীরের পৰে ৰতিকর চর্বি কমায় এবং হৃদস্বাস্থ্য ভালো রাখে।

অপরিশোধিত শস্য বা হোল গ্রেইন : আটা, ঢেঁকিছাঁটা চাল এসব অপরিশোধিত শস্যে রয়েছে প্রচুর আঁশ এবং খনিজ উপাদান। ময়দার পাউরুটি ও রুটি না খেয়ে লাল আটার রুটি ও পাউরম্নটি খেলে মেদ কমে। তাছাড়া মেশিনে পরিশোধিত সাদা চালের ভাত না খেয়ে ঢেঁকিছাঁটা লাল চালের ভাত বেশি পুষ্টিকর। এ ধরনের ভাতে রয়েছে খনিজ উপাদান এবং প্রোটিন। বিশুদ্ধ শর্করা না খেয়ে এমন অপরিশোধিত শর্করাযুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।

মাছ ও মাংস : মুরগি, গরু, ছাগল, ভেড়া ইত্যাদি প্রাণীর মাংসে প্রচুর আমিষ রয়েছে। কিন্তু ভাজা মাংস শরীরের জন্য হিতকর নয়। স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ রান্না মাংস খেলে আমিষের ঘাটতি কেটে যায় এবং মেদও কমে, সামুদ্রিক মাছও হতে পারে আমিষের ভালো উৎস। এ ধরনের মাছে উপকারি চর্বি ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড রয়েছে। মাছ মেদ কমায়, বিষন্নতা দূর করে, হৃদস্বাস্থ্য ভালো রাখে।


দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া অবলম্বনে

তেলাপোকার গুণ

নোংরা চেহারা ও ভীতিকর গঠনের কারণে তেলাপোকার বিশেষ বদনাম রয়েছে। বিশেষ করে তেলাপোকা দর্শনমাত্র গিনি্নদের কানফাটানো চিৎকার ছোট্ট এ প্রাণীকে অচ্ছুত করে রেখেছে সবখানে। তবে এবার জানা গেছে, নোংরা ও কুৎসিত এ প্রাণীটিও মানুষের অভাবিত উপকারে আসতে পারে। এদের শরীরে রয়েছে এমন কিছু উপাদান যা মানুষের শরীরে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ ঠেকাতে বেশ কার্যকর।

যুক্তরাজ্যের নটিংহ্যাম ইউনিভার্সিটির গবেষকরা জানিয়েছেন, তেলাপোকার মস্তিষ্কের কোষে ৯ ধরনের রাসায়নিক অণু পাওয়া গেছে, যা মানুষের শরীরে ই-কোলাই এবং এ ধরনের অন্যান্য ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ ঠেকাতে সক্ষম। গবেষক দলের সদস্য সাইমন লি জানিয়েছেন, তেলাপোকার মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের কোষ মানবদেহের কোনো ক্ষতিসাধন করা ছাড়াই বেশ কিছু ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সারিয়ে তুলতে সক্ষম। সাইমন লি সোসাইটি ফর
জেনারেল মাইক্রোবায়োলজির শরৎকালীন সম্মেলনে এ গবেষণার তথ্য উপস্থাপন করবেন।
গবেষকরা জানিয়েছেন, তেলাপোকার শরীরের উপাদানগুলো কাজে লাগিয়ে নতুন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক উদ্ভাবন করা যেতে পারে। বর্তমানে প্রচলিত ওষুধের বেশির ভাগই তীব্র সংক্রমণের বিরুদ্ধে তেমন একটা কার্যকর নয়। এ ছাড়া প্রচলিত ওষুধের অধিকাংশই মানুষের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করে। কিন্তু তেলাপোকা থেকে পাওয়া উপাদান বেশ কার্যকর এবং সেগুলো দিয়ে একেবারেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াবিহীন ওষুধ তৈরি করা সম্ভব। সূত্র : টেলিগ্রাফ অনলাইন।

অপর্যাপ্ত ঘুম মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ

যেসব তরুণ দৈনিক পাঁচ ঘণ্টার কম সময় ঘুমান তাদের মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ১৭ থেকে ২৪ বছর বয়সী ২০ হাজার অস্ট্রেলীয় নাগরিকের উপর জরিপ চালিয়ে এই তথ্য জানা গেছে। জর্জ ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল হেলথ নামের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এই জরিপ চালায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা পাঁচ ঘণ্টা অথবা তার কম সময় ঘুমান তারা ৮ ও ৯ ঘণ্টা ব্যাপী ঘুমানো মানুষজনের তুলনায় ৩ গুণ বেশি মানসিক রোগে আক্রান্ত হন। 'পি' নামের বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়, যারা পর্যাপ্ত ঘুম থেকে বঞ্চিত হন তারা মানসিক রোগ ছাড়াও হৃদরোগ ও মুটিয়ে যাবার ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। এই গবেষণার প্রধান গবেষক অধ্যাপক লিক গ্লোজিয়ের বলেন, 'একজন তরুণের আদর্শ ঘুমের সময় হচ্ছে দৈনিক ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা।' তবে গত কয়েক দশকে তরুণদের ঘুমের সময়কাল অনেক কমে গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। বর্তমানে নানা ধরনের বিনোদন মাধ্যম ও ডিজিটাল সামগ্রীকে তিনি এর জন্য দায়ী করেছেন। রাত জেগে টেলিভিশন দেখা, ইন্টারনেট নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়া তরুণরা ঘুম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কিন্তু স্কুল, কলেজ ও অফিসের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিছানাও ছাড়তে হচ্ছে তাদের। ফলে ঘুম পর্যাপ্ত হচ্ছে না বেশিরভাগ তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের। এমন কী যারা ছয় ঘণ্টার কম ঘুমান তাদের স্বাস্থ্যও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ধরনের মানুষজন পূর্ণসময় ধরে ঘুমানো মানুষের তুলনায় অধিক মানসিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়। ফলে সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা, দক্ষতা হ্রাস পায় এবং স্ট্রেস বেড়ে যায় মাত্রাতিরিক্ত।


ঘুম বঞ্চিত মানুষের মধ্যে বিষণ্নতাজনিত রোগ 'মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার' বা 'বাইপোলার ডিসঅর্ডার' দেখা দেয়। এ ধরনের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেয়ার পূর্বেই পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে মনে করেন গ্লোজিয়ের। তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে বিষণ্নতা, মাদকাসক্তি, অপরাধ প্রবণতা ও আত্মহত্যার মত ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষজন নিরাময়হীন স্ট্রেসের শিকার হতে পারে। যার ফলে দেখা দিতে পারে হৃদরোগ ও স্থূলতা। এ ধরনের সমস্যা থেকে মুক্ত হতে রাত জেগে অতিরিক্ত টেলিভিশন দেখার অভ্যাস ত্যাগ করা এবং ইন্টারনেট, মোবাইল ইত্যাদি ডিজিটাল সামগ্রী রাতে ঘুমানোর সময় বন্ধ রাখা জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা ও ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় কম পান করারও পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। পর্যাপ্ত ঘুম ঝরঝরে স্বাস্থ্য ও মানসিক অবস্থা নিশ্চিত করে। তাই দৈনিক ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানোর বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন গবেষকরা।


এবিসি নিউজ অনলাইন অবলম্বনে