RSS

তেলাপোকার গুণ

নোংরা চেহারা ও ভীতিকর গঠনের কারণে তেলাপোকার বিশেষ বদনাম রয়েছে। বিশেষ করে তেলাপোকা দর্শনমাত্র গিনি্নদের কানফাটানো চিৎকার ছোট্ট এ প্রাণীকে অচ্ছুত করে রেখেছে সবখানে। তবে এবার জানা গেছে, নোংরা ও কুৎসিত এ প্রাণীটিও মানুষের অভাবিত উপকারে আসতে পারে। এদের শরীরে রয়েছে এমন কিছু উপাদান যা মানুষের শরীরে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ ঠেকাতে বেশ কার্যকর।

যুক্তরাজ্যের নটিংহ্যাম ইউনিভার্সিটির গবেষকরা জানিয়েছেন, তেলাপোকার মস্তিষ্কের কোষে ৯ ধরনের রাসায়নিক অণু পাওয়া গেছে, যা মানুষের শরীরে ই-কোলাই এবং এ ধরনের অন্যান্য ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ ঠেকাতে সক্ষম। গবেষক দলের সদস্য সাইমন লি জানিয়েছেন, তেলাপোকার মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের কোষ মানবদেহের কোনো ক্ষতিসাধন করা ছাড়াই বেশ কিছু ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সারিয়ে তুলতে সক্ষম। সাইমন লি সোসাইটি ফর
জেনারেল মাইক্রোবায়োলজির শরৎকালীন সম্মেলনে এ গবেষণার তথ্য উপস্থাপন করবেন।
গবেষকরা জানিয়েছেন, তেলাপোকার শরীরের উপাদানগুলো কাজে লাগিয়ে নতুন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক উদ্ভাবন করা যেতে পারে। বর্তমানে প্রচলিত ওষুধের বেশির ভাগই তীব্র সংক্রমণের বিরুদ্ধে তেমন একটা কার্যকর নয়। এ ছাড়া প্রচলিত ওষুধের অধিকাংশই মানুষের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করে। কিন্তু তেলাপোকা থেকে পাওয়া উপাদান বেশ কার্যকর এবং সেগুলো দিয়ে একেবারেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াবিহীন ওষুধ তৈরি করা সম্ভব। সূত্র : টেলিগ্রাফ অনলাইন।

অপর্যাপ্ত ঘুম মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ

যেসব তরুণ দৈনিক পাঁচ ঘণ্টার কম সময় ঘুমান তাদের মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ১৭ থেকে ২৪ বছর বয়সী ২০ হাজার অস্ট্রেলীয় নাগরিকের উপর জরিপ চালিয়ে এই তথ্য জানা গেছে। জর্জ ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল হেলথ নামের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এই জরিপ চালায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা পাঁচ ঘণ্টা অথবা তার কম সময় ঘুমান তারা ৮ ও ৯ ঘণ্টা ব্যাপী ঘুমানো মানুষজনের তুলনায় ৩ গুণ বেশি মানসিক রোগে আক্রান্ত হন। 'পি' নামের বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়, যারা পর্যাপ্ত ঘুম থেকে বঞ্চিত হন তারা মানসিক রোগ ছাড়াও হৃদরোগ ও মুটিয়ে যাবার ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। এই গবেষণার প্রধান গবেষক অধ্যাপক লিক গ্লোজিয়ের বলেন, 'একজন তরুণের আদর্শ ঘুমের সময় হচ্ছে দৈনিক ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা।' তবে গত কয়েক দশকে তরুণদের ঘুমের সময়কাল অনেক কমে গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। বর্তমানে নানা ধরনের বিনোদন মাধ্যম ও ডিজিটাল সামগ্রীকে তিনি এর জন্য দায়ী করেছেন। রাত জেগে টেলিভিশন দেখা, ইন্টারনেট নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়া তরুণরা ঘুম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কিন্তু স্কুল, কলেজ ও অফিসের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিছানাও ছাড়তে হচ্ছে তাদের। ফলে ঘুম পর্যাপ্ত হচ্ছে না বেশিরভাগ তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের। এমন কী যারা ছয় ঘণ্টার কম ঘুমান তাদের স্বাস্থ্যও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ধরনের মানুষজন পূর্ণসময় ধরে ঘুমানো মানুষের তুলনায় অধিক মানসিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়। ফলে সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা, দক্ষতা হ্রাস পায় এবং স্ট্রেস বেড়ে যায় মাত্রাতিরিক্ত।


ঘুম বঞ্চিত মানুষের মধ্যে বিষণ্নতাজনিত রোগ 'মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার' বা 'বাইপোলার ডিসঅর্ডার' দেখা দেয়। এ ধরনের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেয়ার পূর্বেই পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে মনে করেন গ্লোজিয়ের। তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে বিষণ্নতা, মাদকাসক্তি, অপরাধ প্রবণতা ও আত্মহত্যার মত ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষজন নিরাময়হীন স্ট্রেসের শিকার হতে পারে। যার ফলে দেখা দিতে পারে হৃদরোগ ও স্থূলতা। এ ধরনের সমস্যা থেকে মুক্ত হতে রাত জেগে অতিরিক্ত টেলিভিশন দেখার অভ্যাস ত্যাগ করা এবং ইন্টারনেট, মোবাইল ইত্যাদি ডিজিটাল সামগ্রী রাতে ঘুমানোর সময় বন্ধ রাখা জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা ও ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় কম পান করারও পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। পর্যাপ্ত ঘুম ঝরঝরে স্বাস্থ্য ও মানসিক অবস্থা নিশ্চিত করে। তাই দৈনিক ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানোর বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন গবেষকরা।


এবিসি নিউজ অনলাইন অবলম্বনে

শিক্ষণ ও স্মৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে স্বপ্ন

ঘুমের ঘোরে দেখা স্বপ্নের কথা মানুষ মনে করতে পারুক বা না পারুক মসত্দিষ্কের স্মৃতি সংরৰণে ও নতুন কিছু শেখার ৰেত্রে স্বপ্নের গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। স্বপ্ন হতে পারে ভয়ের, সুখের, কাম উত্তেজনার কিংবা অস্বস্তিকর। বিখ্যাত মনোবিদ সিগমুন্ড ফ্রয়েড বলেছেন, স্বপ্ন হল সচেতন মনের প্রতি অচেতন মনের বার্তা।

প্রশ্ন উঠেছে স্বপ্ন কী নিছকই মস্তিষ্কের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া ? না-কি এর সত্যি উপকারী দিক রয়েছে। ইদানিং বহু গবেষক বলছেন, স্বপ্ন নতুন ভাবনার জন্ম দেয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন আমরা নতুন যা কিছু শিখছি তাকে সুবিন্যস্ত করে। স্বপ্ন নিয়ে ফয়েডের মনোসমীক্ষণ ও ব্যাখ্যার পর প্রায় এক শতাব্দি কেটে গেছে। তবু স্বপ্ন রহস্যের পুরো সমাধান এখনো পাওয়া যায়নি। গবেষকরা জানিয়েছেন, স্বপ্ন যতই তীব্র ও দীর্ঘ সময়েরই হোক না কেন মানুষ তার খুব অল্প অংশই স্মরণ রাখতে পারে। অনেকে একেবারেই তা ভুলে যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে মানুষ স্বপ্নের কথা মনে করতে পারুক বা না পারুক স্মৃতি ও শিক্ষণো তার ভূমিকা রয়েছে।

গবেষকদের মতে মানুষের ঘুমের তিনটি পর্যায় রয়েছে। হালকা, গাঢ় ও গভীর- সাধারণভাবে এই তিনটি সত্দরে ভাগ করা যায় ঘুমকে। হালকা স্তরের নাম বিজ্ঞানের ভাষায় রেম বা র্যাপিড আই মুভমেন্ট। এ সময় চোখের পাতার নিচে অক্ষিগোলক কাঁপতে থাকে এবং মস্তিষ্কের বেশিরভাগ অংশ সজাগ হয়ে ওঠে। একজন মানুষের ঘুমের শতকরা ২০ ভাগ হল রেম পর্যায়ের ঘুম। বেশির ভাগ স্বপ্ন আমরা এ সময়ই দেখি। এ সময় দেখা স্বপ্ন দীর্ঘস্থায়ী ও দৃশ্যময় হয়। রেম পর্যায়ে দেখা স্বপ্ন আমাদের কিছুটা হলেও মনে পড়ে। কিন্তু গভীর ঘুম বা ওয়েভ ঘুমের সময় দেখা স্বপ্ন মনে করা কঠিন। বস্টনে অবস্থিত হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের গবেষক রবার্ট স্টিকগোল্ড বলেন, 'রেম ঘুমে দেখা স্বপ্ন আবেগের সঞ্চার করে আমাদের মনে। এছাড়া এই পর্যায়ে স্বপ্ন দেখার সময় জাগ্রত অবস্থার চাইতেও মস্তিস্ক বেশি সচল থাকে। ফলে আমরা সহজেই স্মৃতি, আবেগ ইত্যাদি সঞ্চয় করতে পারি মস্তিষ্কের ভেতর।' অপর দিকে গভীর ঘুমে দেখা স্বপ্ন আমরা তেমন মনে করতে পারি না বলে জানিয়েছেন তিনি।

স্বপ্ন দেখার সময় মসত্দিষ্কের একটি অংশ অপর একটি অংশের কাছে অর্জিত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এবং তাকে স্মৃতিতে পরিণত করে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক জোনাথন উইনসন। তিনি বলেন, 'মস্তিষ্কের 'হিপ্পোক্যাম্পাস' দিনের অর্জিত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে 'নিউকর্টেক্সের' কাছে। এভাবে অভিজ্ঞতাকে শিক্ষায় পরিণত করতে সাহায্য করে স্বপ্ন। নিউরোসায়েন্টিস্ট ও মলিকু্যলার বায়োলজিস্ট ফ্রাঙ্কিস ফ্রিক বলেন, 'আমরা স্বপ্নের মাধ্যমে যেমন গুরম্নত্বপূর্ণ স্মৃতি ফিরে পাই ঠিক তেমনটি বেদরকারী ও অস্বস্তিকর স্মৃতিকেও ঝেটিয়ে বিদায় করি।' স্বপ্ন কী করে আমাদের অজান্তেই একটি স্মৃতিকে জাগ্রহ করে তার উদাহরণও দিয়েছেন গবেষকরা। হার্ভার্ডের গবেষক স্টিকগোল্ডের মতে, জাগ্রত অবস্থায় মস্তিষ্ক যে সমস্যার সমাধান করতে পারে না স্বপ্ন তা অনেক সময় করে দেখায়। তিনি বলেন, 'অনেক সময় এমন হয় যে আপনি কোনো ব্যক্তির নাম ভুলে গেলেন। সারা দিনেও তা মনে পড়লো না। বিষয়টি মাথার মধ্যে সেভাবেই রয়ে গেল দিনভর। কিন্তু রাতে স্বপ্নের সময় মস্তিষ্কের অতি সক্রিয় অবস্থা ঠিক স্মৃতি থেকে খুঁজে বের করবে সেই নাম। যা সকালে ঘুম ভেঙে আপনার মনে পড়ে যেতে পারে।'


এবিসি সায়েন্স নিউজ অনলাইন

ওজন নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারার কয়েকটি প্রধান কারণ

অব্যাহত ডায়েটিং করার পরও ওজন কমাতে পারছেন না অনেকেই। সম্প্রতি গবেষকরা ওজন কমানো কঠিন হয়ে ওঠার পেছনে কিছু কারণ চিহ্নিত করেছেন। এসব বিষয়ে সচেতন হয়ে উঠতে পারলে ওজন কমানোর লড়াই অনেকটা সহজ হয়ে উঠবে বলে দাবি করেছেন গবেষকরা। ওজন নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারার কারণগুলো হল-

স্বল্প নিদ্রা বা ঘুমের সমস্যা : ব্যস্ত নাগরিক জীবন ঘুম কেড়ে নিচ্ছে নাগরিকদের চোখ থেকে। স্বল্প নিদ্রা নগরজীবনের একটি প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুস্থ জীবন যাপনের জন্য দৈনিক ৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন একজন মানুষের। কিন্তু এমন সময় ধরে ঘুমাতে পারেন অল্প ক'জনই। ঘুম অসমাপ্ত রেখে যারা বিছানা ছাড়েন তাদের শরীরে স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায় অস্বাভাবিকভাবে। শরীর এই অবস্থা মোকাবিলা করার জন্য দ্রুত মেদ সঞ্চয় করতে থাকে। ফলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে মুটিয়ে যাবার সম্ভাবনা প্রবল। নিয়মিত ৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম ওজন বাড়ানোর সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে। কম ঘুমের কারণে অনাবশ্যক ক্লান্ত দেখা দেয়। ফলে শরীরে শক্তির চাহিদা বেড়ে যায়। শক্তির এই চাহিদা পূরণে শরীর বাড়তি ক্যালরি সঞ্চয় করে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

স্ট্রেস : দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস বা মনোদৈহিক চাপ শরীরের বিপাকক্রিয়ার গতি মন্থর করে তোলে। ফলে দৈনিক খাদ্য তালিকায় ক্যালরি না বাড়লেও মন্থর বিপাকক্রিয়ার কারণে মেদ সঞ্চয় হতে থাকে। এমন মেদ সঞ্চিত হয় কোমরের চারপাশে। ফলে কোমরের চারপাশে হুট করে বাড়তি মেদ সঞ্চয় হতে থাকলে সতর্ক হতে হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে নিজের স্ট্রেসের পরিমাণ কমানোর কথা ভাবতে হবে। প্রথমেই স্ট্রেসের উৎস চিহ্নিত করে তারপর স্ট্রেস নির্মূলের কাজ শুরু করতে হবে। স্ট্রেস কমাতে না পারলে ডায়েটিং করেও ফল পাওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

ওষুধ : এমন কিছু ওষুধ রয়েছে যেগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে ওজন বেড়ে যায়। বিষণ্নতাবিরোধী ওষুধ, মাইগ্রেন কমানো ওষুধ এবং কিছু কিছু উচ্চ রক্তচাপবিরোধী ওষুধ ওজন বাড়িয়ে দেয় বলে জানা গেছে। এসব ওষুধ সেবনের পর রুচি বেড়ে যায় যার কারণে ওজন বাড়ার মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমন সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ কোন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলে ওজন বাড়ছে তা সেবনকারীর পক্ষে জানা সম্ভব নয়।

স্বাস্থ্যগত কারণ : অনেক সময় শারীরিক কিছু সমস্যা বা অবস্থার কারণেও ওজন বাড়তে পারে। শরীরে থায়রয়েড হরমোনের ঘাটতি দেখা দিলে ওজন বাড়তে পারে। এ ধরনের সমস্যাকে হাইপো-থায়রয়েডিজম বলা হয় চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়। এই সমস্যায় আক্রান্ত হলে রুচি কমে যায়, ঘুমের মাত্রা বেড়ে যায় এবং শরীরের বিপাকক্রিয়ার গতি অত্যন্ত মন্থর হয়ে পড়ে। ফলে ওজন বাড়তে থাকে দ্রুত। হাইপো-থায়রয়েডিজমের কারণে যাদের ওজন বাড়ছে তারা দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করে যথাযথ চিকিৎসা নিলে রোগটি নিয়ন্ত্রণে আসবে। বাড়তি ওজনের সমস্যাও মোকাবিলা সহজ হবে।

দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া অবলম্বনে

ওষুধ ছাড়াই বিষণ্নতা দূর করা সম্ভব

বিশ্বজুড়ে বিষণ্নতায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দিন দিনই বাড়ছে। প্রতিযোগিতামূলক আধুনিক বিশ্বে কর্মব্যস্ততার চাপ কেড়ে নিয়েছে মানুষের প্রাণচাঞ্চল্য ও মুখের হাসি। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তনই বিষণ্নতা রোগের মূল কারণ। যুক্তরাজ্যের মোট জনসংখ্যার ২০ থেকে ৩০ ভাগ পূর্ণবয়স্ক মানুষই বিষণ্নতার শিকার। গত কয়েক দশক পূর্বে এই রোগে আক্রান্তের হার ছিল অর্ধেকের মত। যুক্তরাষ্ট্রের কনসাস শহরে বসবাসকারী মনোবিদ ড. স্টিভ ইলার্ডি বিষণ্নতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন। বিষণ্নতার উপসর্গকে মানবমস্তিষ্ক শারীরিক ব্যথা বেদনা বা প্রদাহ বলে ভুল করে। ইলার্ডির মতে তখন মানুষ নিজেকে পরিপার্শ্ব থেকে গুটিয়ে নেয় এবং একা থাকতে চায়। এতে আরো প্রকট হয় বিষণ্নতার উপসর্গ। তার মতে, বিষণ্নতায় আক্রান্ত ব্যক্তির উচিত অধিকহারে মানুষের সাথে মেলামেশা করা। ইলার্ডি বলেন, 'অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিষণ্নতার রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ মত ওষুধ সেবন করেন এবং কোনো উপকার পান না। ক্ষেত্র বিশেষে রোগটা আরো তীব্র আকারে ফিরে আসে। তাছাড়া যৌন অক্ষমতা, আবেগের ভারসাম্যহীনতা এবং ওজন বাড়ার মত মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে বিষণ্নতা বিরোধী ওষুধের।' ওষুধ ছাড়াই জীবন-যাপন এবং চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন এনে বিষণ্নতা দূর করা শ্রেয় বলে মনে করেন তিনি।


কনসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইলার্ডি ওষুধ ছাড়াই বিষণ্নতা দূর করার একটি চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। থ্যারাপিউটিক লাইফ স্টাইল চেঞ্জ বা টিএলসি নামের এই চিকিৎসাপদ্ধতিতে জীবন-যাপনের ধারা পাল্টানোর মাধ্যমে বিষণ্নতা দূর করা হয়। বিষন্নতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রথমেই তিনি এর মূল কারণ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দেন। তার মতে বিষণ্নতার আসল কারণ লুকিয়ে আছে আমাদের জীবন-যাপনের মধ্যে। তিনি বলেন, 'আমাদের জীবনযাপনের মান অতি দ্রম্নত উন্নত হয়েছে প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সাথে সাথে। কিন্তু সেই সাথে জীবনে তৈরি হয়েছে কিছু চোরাবালির। মানুষ প্রকৃতিগতভাবে গৃহাভ্যন্তরের জীব নয়। পাশাপাশি তাকে পেশার স্বার্থে সামাজিক যোগাযোগ ছাড়তে হচ্ছে। ঘুম কমাতে হচ্ছে এবং একটা নিরানন্দ জীবনের ঘানি টেনে যেতে হচ্ছে। তাই বিষণ্নতা উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে।'

ড. স্টিভ ইলার্ডি তার সম্প্রতি প্রকাশিত বইতে উলেস্নখ করেছেন, পৃথিবীর পরিবেশ ও মানুষের সভ্যতা যেভাবে দ্রুত পাল্টে গেছে তার সঙ্গে মানবদেহ পালস্না দিয়ে বদলায়নি। গত ১২ হাজার বছরে মানুষের শরীরে এক ইঞ্চিও পরিবর্তন সাধিত হয়নি। তিনি বলেন ,'জৈবিকভাবে আমাদের দেহ এখনো প্রস্তরযুগের সংগ্রামমুখর সময়ের মধ্যেই আটকে আছে। এই আদিম দেহ যখনই আধুনিক পরিবেশের ভেতরে প্রবেশ করেছে তখন থেকেই বিষণ্নতার শুরম্ন।' পরিশ্রম উপযোগী করে তৈরি এই দেহটি এখন শ্রমবিযুক্ত পেশার সঙ্গে যুক্ত হয়ে হারিয়ে ফেলেছে নিজের গতি ও অভ্যনত্দরীণ শক্তি। তার মতে, মানবদেহের যে গঠন সেটা রক্ষা করে চলতে হলে একজন মানুষকে প্রচন্ড শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। তাজা ফলমূল ও ভিটামিন সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক খাবার খেতে হবে এবং দশ ঘণ্টা সময় ধরে ঘুমাতে হবে। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যভ্যাস, পরিশ্রমহীনতা এবং স্বল্প সময়ের ঘুমে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষ। এমন কী আধুনিক মানুষ পর্যাপ্ত সূর্যালোকের সংস্পর্শে পর্যন্ত আসে না। মনোরোগ ও মনোবিকলনের এটাই কারণ বলে মনে করেন তিনি।

পৃথিবীতে এখনো যেসব আদিবাসী জনগোষ্ঠী রয়েছে তাদের মধ্যে বিষণ্নতার হার শূন্যভাগ। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে আধুনিক জীবন যাপন কতটা ত্রুটিপূর্ণ। ইলার্ডি বিষণ্নতা দূর করতে কমপৰে ৮ ঘণ্টা ঘুম, পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম, প্রচুর তাজা ফলমূল এবং মাছ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, পাশাপাশি সূর্যালোকের সংস্পর্শে দিনের একটা সময় ব্যয় করারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, চিন্তাধারা থেকে না বোধক ভাবনা ঝেটিয়ে বিদায় করাও গুরম্নত্বপূর্ণ। এ ধরনের পরামর্শ মেনে চললে বিষণ্নতা থেকে দ্রুত মুক্তিলাভ সম্ভব। খাদ্য তালিকা থেকে ফাস্টফুড বিদায় করতে হবে সর্বাগ্রে। যোগ করতে হবে ফলমূল ও মাছ। ফলে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং মাছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড। এদু'টি উপাদান শরীরকে চনমনে ও উচ্ছ্বল রাখে। বিষণ্নতাকে বিদায় জানাতে এ ধরনের জীবনাভ্যাস গড়ে তোলার বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।

মস্তিষ্কে নতুন ভাবনার উন্মেষ রুদ্ধ করছে ডিজিটাল সামগ্রী

মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, গেমার, আইপড, ইন্টারনেট, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সামগ্রীর উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে বাধাগ্রস্তহয় মানব মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড। যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোতে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার একদল গবেষক ইঁদুরের উপর গবেষণা চালিয়ে দেখেছেন, ইঁদুরেরা যখনই কোনো নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয় তখন তাদের মস্তিষ্কে নতুন ধরনের আলোড়ন তৈরি হয়। কিন্তু এই আলোড়ন তখনই স্থায়ী স্মৃতিতে রূপ নেয় যখন ইঁদুরের মস্তিষ্ক অবসর পায়। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লরেন ফ্রাঙ্ক বলেন, 'ডিজিটাল সামগ্রীর কারণে মানুষের মস্তিষ্ক সর্বক্ষণ ব্যস্ত থাকে। এমন কী অবসরের সামান্য দু এক মিনিট সময়ও কেড়ে নেয় ইন্টারনেট কিংবা আইফোন। ফলে মস্কিষ্ক নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। তৈরি হয় অনাবশ্যক ক্লান্তি। 'তার মতে, আমাদের মস্তিষ্ক সচল থাকার সময় যে সব অভিজ্ঞতা হয় সেসব অভিজ্ঞতা মস্তিষ্ক অলস বা বিশ্রামরত অবস্থায় থাকার সময় অনেক ভালোভাবে বিন্যস্ত হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিতে রূপ লাভ করে। এই গবেষণার সাথে যুক্ত গবেষকরা ইঁদুরের উদাহরণ টেনে বলছেন, তারাও একইভাবে স্মৃতিকে কাজে লাগিয়ে নতুন কিছু শেখে। তাই নতুন চিন্তার স্ফুরণ কিংবা শিক্ষণের ক্ষেত্রে ডিজিটাল সামগ্রীর এমন অতিরিক্ত ব্যবহার ক্ষতিকর বলে মনে করছেন তারা।

মোবাইল কিংবা সেলফোন কোম্পানিগুলো বর্তমানে তাদের নিত্যনতুন ব্র্যান্ডের সেটে সংযোজন করছেন অকল্পনীয় সব সুবিধা। বোতান টিপলেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে খুলে যাচ্ছে তথ্যের জগৎ। পাশাপাশি ইমেইল চেক করার সুবিধা থেকে শুরম্ন করে গেম খেলা, রেডিও শোনা এমন কী টেলিভিশন কিংবা সদ্য মুক্তি পাওয়া হলিউডের সিনেমা দেখারও সুযোগ মিলছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। পাশ্চাত্যের সিংহভাগ মানুষের অভ্যাস ঘুম ভেঙেই ফোনের মনিটরের দিকে তাকানো। এছাড়া টয়লেট, প্রাতরাশের টেবিল, ব্যায়ামাগার কিংবা দোকানের লাইনে দাঁড়িয়েও চলছে ইন্টারনেট ব্রাউজিং কিংবা ফোনালাপ। আধুনিক ব্যায়ামাগারগুলোর যন্ত্রের সঙ্গে বর্তমানে আইপড, টেলিভিশন মনিটর ও গেমার সংযুক্ত থাকে। ফলে জাগ্রত অবস্থায় থাকা মুহূর্তগুলোর সিংহভাগ সময়ই ব্যসত্দ থাকছে মস্তিষ্ক। অফিস বা কর্মক্ষেত্রে ডিজিটাল যন্ত্রের ব্যবহার এখন শতভাগ। তাই মস্তিষ্ক অবসর পাচ্ছে না কখনোই।

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, কোনো মানুষ যখন প্রাকৃতিক শোভামণ্ডিত কোনো পরিবেশে হেঁটে বেড়ায় তখন সে অনেক বেশি শিখে। অপরদিকে দালান কোঠা পরিবেষ্টিত নগরের রাসত্দায় হাঁটার সময় মস্তিষ্কের শিক্ষণ প্রক্রিয়া সেভাবে কাজ করে না। এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তারা বলেছেন, শহরের রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় এত সব তথ্য মানুষকে হজম করতে হয় যার কারণে মস্তিষ্ক হয়ে পড়ে তথ্যভারাক্রান্ত। ফলে দ্রুতই ক্লান্তি ভর করে। এমন কী যখন মানুষ কর্মক্ষেত্রের বাইরে খুব গা-ছাড়াভাবে সময় কাটায় তখনও মস্তিষ্ক ক্লান্ত হওয়ার হাত থেকে রেহাই পায় না। মিশিগানের গবেষকরা উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, 'ধরুন আপনি বাসস্টপে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। এ সময়টা কাজে লাগানোর কথা ভেবে মোবাইলে ডাউনলোড করছেন কোনো গান কিংবা ভিডিও ক্লিপ। আপনি ভাবতে পারেন এভাবে সহজেই সতেজ হওয়া গেল, পাওয়া গেল একটু বিনোদন কিন্তু তা সঠিক নয়। নিজের অজান্তেই আপনি মস্তিকে ব্যতিব্যস্ত রেখে ক্লান্তই করে তুলছেন তাকে।

হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের মনস্তত্ত্ব বিভাগের সহকারী ক্লিনিক্যাল প্রফেসর জন জে রেটি বলেন, 'ব্যায়াম আমাদের জীবনের অংশ হয়ে ওঠা উচিত। আমাদের শুয়ে বসে কাটানো জীবন থেকে শরীরচর্চার মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে হবে।' তিনি আধুনিক ব্যায়ামাগারগুলোতে যেসব ব্যবস্থা রয়েছে তার অনাবশ্যকতা তুলে ধরেন। তার মতে, ডিজিটাল সামগ্রীকে পেছনে ফেলে এসব থেকে ছুটি নিয়ে প্রকৃতির মাঝে হাঁটা কিংবা দৌড়ানোই হল সবচেয়ে উপকারী শরীরচর্চা। এখনকার বহু গবেষকই রেটির সঙ্গে গলা মিলিয়ে ডিজিটাল পণ্যের উপর নির্ভরশীলতা কমানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। জীবনকে আরো নতুন ভাবনা ও সৃজনশীলতা দিয়ে সাজাতে হলে এসব যন্ত্র-নির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে বলে মনে করেন তারা।


দ্য নিউইয়র্ক টাইমস অবলম্বনে

অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে সব ধরনের এন্টিবায়োটিক

সম্প্রতি ওষুধ প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পাওয়ার পর বিজ্ঞানীরা এন্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা নিয়ে শংকিত হয়ে পড়েছেন। তারা আশংকা করছেন ওষুধ প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া দ্রম্নত ছড়িয়ে পড়তে পারে পৃথিবীব্যাপী। আর তার ফলে ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বিপুল প্রাণহানি ঘটবে বিশ্বজুড়ে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের গবেষক অধ্যাপক টিম ওয়ালশ এনডিএম-১ নামের একটি জিন আবিষ্কার করেছেন যা ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে সহজে বাহিত হতে পারে। কোনো ব্যাকটেরিয়া একবার এই জিনের অধিকারী হলে সেটি ওষুধ প্রতিরোধী জীবাণুতে পরিণত হয়। অতি সম্প্রতি 'এসক্লেরেশিয়া কোলাই' ও 'ক্লেবসিলিয়া নিউমোনি' নামের দু'টো জীবাণুতে এ ধরনের জিনের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী এন্টিবায়োটিক 'কার্বাপেনেমস'ও কাজ করে না। 'কার্বাপেনেমসকে' বলা হয় জীবাণুর বিরুদ্ধে মানুষের শেষ অস্ত্র। বিজ্ঞানীদের মতে, এই শেষ অস্ত্রটি অকার্যকর হয়ে উঠার সাথে সাথে মানুষ এন্টিবায়োটিক পরবর্তী যুগে প্রবেশ করল। এর প্রকৃত অর্থ হল নতুন জীবাণুর বিরুদ্ধে এন্টিবায়োটিকের আর কোনো কার্যকারিতা অদূর ভবিষ্যতে নাও থাকতে পারে।


১৯২৮ সালে আলেক্সান্ডার ফ্লেমিং পেনিসিলিন আবিষ্কারের পূর্বে পৃথিবীর যে পরিস্থিতি ছিল মানুষ আবারো সে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে শুরু করেছে বলে হুঁশিয়ার করেছেন বিজ্ঞানীরা। পেনিসিলিনপূর্ব পৃথিবীতে এপেন্ডিসাইটিসের মত ছোটখাট অপারেশনও ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। বিজ্ঞানীদের মতে তেমন পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। ভারতসহ উপমহাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে অপারেশনের পর রোগীর দেহে এ ধরনের জীবাণুর সংক্রমণ ঘটছে। হাসপাতাল থেকে সংক্রমিত 'হসপিটাল নিউমোনিয়া' বা 'সেপটিসেমিয়াতে' মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ারও অন্যতম কারণ ওষুধ প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া।

ওষুধের বিরুদ্ধে ব্যাকটেরিয়াদের এই বিজয়ে বিস্মিত নন অধ্যাপক টিম ওয়ালশ এবং তার সহকর্মীরা। তারা জানান, বিষয়টি বোঝা যাবে ডারউইনের সূত্র থেকে। ডারউইন বলেছেন, 'প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার জন্যই জীব নিজের দেহে পরিবর্তন আনে। এই পরিবর্তনের অব্যাহত ধারাই হল বিবর্তন।' ব্যাকটেরিয়াগুলো সম্প্রতি ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে ওঠার ক্ষেত্রেও বিবর্তন কাজ করছে। বিজ্ঞানীদের মতে, জীবমণ্ডলীর মধ্যে ব্যাকটেরিয়াদের অভিযোজন ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি। তাই কিছুকাল পরপরই তারা এক একটি এন্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করে। অর্থাৎ সেসব এন্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অর্জন করে। সম্প্রতি যে সব ব্যাকটেরিয়াতে 'এনডিএম-১' জিন পাওয়া গেছে তারা কেপিসি নামের এক প্রকার এনজাইম তৈরি করে যার প্রভাবে সবচেয়ে শক্তিশালী এন্টিবায়োটিকটিও কাজ করে না। এই ক্ষমতা ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে এসেছে বিবর্তন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই। তাদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণেই তারা ধীরে ধীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করেছে সব ওষুধের বিরুদ্ধে।

জীবাণুর বিরুদ্ধে মানুষের দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত ব্যাকটেরিয়াদেরই জয় হবে বলে আশংকা করছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, এর ফলে ভবিষ্যতে যেকোনো আঙ্গ প্রতিস্থাপনের অপারেশন করা যাবে না কারণ এসব অপারেশনের সময় রোগীকে এমন ওষুধ দেয়া হয় যা দেহের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। বিকল্প হিসেবে এন্টিবায়োটিক দেয়া হয় রোগীকে যা তাকে রক্ষা করে সংক্রমণের হাত থেকে। কিন্তু ওষুধ প্রতিরোধী জীবাণুর আবির্ভাবের ফলে এখন থেকে আর এমন অপারেশনে এন্টিবায়োটিক কাজ করবে না। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাবে এপেন্ডিক্স অপারেশনের মত সব ধরনের ছোটখাট অপারেশনও। কারণ তাতে রোগীর সেপটিসেমিয়া হওয়ার আশংকা থাকবে। বৃদ্ধ এবং শিশুদের প্রাণঘাতি নিউমোনিয়ার হাত থেকে রক্ষার কোনো উপায় থাকবে না। এসব রোগে বিশ্বজুড়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ মারা যাবে। গনোরিয়া কিংবা যক্ষা দেখা দিতে পারে মহামারি আকারে। এসব রোগের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ওষুধই থাকবে না মানুষের হাতে।